নরসিংদীতে স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ মাটিচাপা, স্বামী আটক
নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীতে স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগে ঘাতক স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশ ১৯ আগস্ট (বুধবার) রাতে স্বামী শরীফ মিয়াকে (৪৪) সদর উপজেলার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের নোয়াকান্দা তার শ্বশুরবাড়ি থেকে আটক করেন।
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’-এর প্রস্তুতি সভা
নিহত স্ত্রী হোসনে আরা বেগম (৩৫) নোয়াকান্দা গ্রামের আ. রহমানের মেয়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের কারণে গত ১৭ আগস্ট (সোমবার) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে থাপ্পড় দিলে স্ত্রী হোসনে আরা টিউবওয়েলের ওপর পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তার আর জ্ঞান ফেরেনি। কিন্তু এদিকে স্বামী শরীফ মিয়া স্ত্রীকে ডাক্তারের কাছে না নিয়ে ঘরের মেঝেতেই লুকিয়ে রাখেন। এরপরের দিন অর্থাৎ ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশে কবরস্থানে নিয়ে গিয়ে মাটিচাপা দিয়ে চলে আসেন।
আরও পড়ুন: সিংড়ায় তিন বন্ধুর হাত ধরে স্বপ্নের দিগন্তে ‘অ্যাবসাইন ফ্যাশন’
কিন্তু এ ঘটনার পর তিনি স্বজনসহ প্রতিবেশীদের জানান, তার স্ত্রী রাগ করে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। পরে তিনি ১৯ আগস্ট (বুধবার) দুপুরে মাধবদী থানায় শ্বশুরসহ উপস্থিত হয়ে স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছেন মর্মে একটি সাধারণ ডায়েরি করতে চান। এ সময় তার কথাবার্তা সন্দেহজনক হলে পুলিশ জিডি না নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করতে বলেন। পরে তিনি অভিযোগ দায়ের করে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান।
বিষয়টি পুলিশের সন্দেহ হলে পুলিশ তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে এসে জেরা করতে থাকলে একপর্যায়ে সে স্ত্রী হত্যার কথা স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘স্ত্রী হত্যার দুই দিন পর থানায় এসে একটি সাধারণ ডায়েরি করতে চান স্বামী শরীফ মিয়া। এ সময় তার কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক হলে তাকে নজরে রাখি। একপর্যায়ে তাকে জেরা করলে সে স্ত্রী হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন এবং মরদেহ কোথায় মাটিচাপা দিয়ে রেখেছে, সে ঘটনার বর্ণনা দেন।’
তিনি আরও বলেন, মরদেহ উত্তোলনের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে আসবেন। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতির পরই মরদেহ উত্তোলন করা হবে।





