বাস ভাঙচুরের প্রতিবাদে জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জামালপুরে দূরপাল্লার বাস ভাঙচুর ও স্টাফদের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে জামালপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। এতে টার্মিনালে এসে আটকা পড়েছেন শত শত যাত্রী।

বাস চালকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাস ভাঙচুর ও স্টাফদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে চুরি মামলায় ৫ জন গ্রেপ্তার

জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট রাত ৭টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার লাহেরীকান্দা এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাসটি অটোরিকশার ওপর উল্টে গেলে চারজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন।

ওই দুর্ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন চলাকালে ঢাকা থেকে জামালপুরের দিকে আসা রাজীব পরিবহনের দুটি বাস ভাঙচুর করা হয়।

আরও পড়ুন: উলিপুরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

বাস চালকদের অভিযোগ, স্থানীয় লোকজন বাস দুটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি স্টাফদের মারধর করে তাদের সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনায় তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বলে দাবি করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার মধ্যরাতে জামালপুর থেকে ঢাকা রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন বাস চালকরা। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। ফলে জামালপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি।

হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সকালে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য টার্মিনালে এসে অনেককেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বিকল্প ছোট যানবাহনে যাতায়াতের চেষ্টা করছেন। এ সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

আলিফ নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, “আজ দুপুর ৩টা থেকে আমার হেড অফিসে জেলার লোকজনদের নিয়ে মিটিং। সকালে বাস টার্মিনালে এসেছিলাম বাসে করে ঢাকা যাব বলে। বাসে উঠতে পারলে দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ঢাকা পৌঁছাতে পারতাম। কিন্তু এসে দেখি বাস বন্ধ। এ সময় ট্রেনও নেই। মাইক্রোবাসে যেতে ৬ হাজার টাকা ভাড়া চাচ্ছে। ৫০০ টাকা দিয়ে যাওয়ার জন্য বের হয়ে ৬ হাজার টাকা দিয়ে যাওয়া কি সম্ভব? এখানে আমার মতো আরও অনেকে আছেন। চরম ভোগান্তির মধ্যে আছি।”

জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ বলেন, “লোকজন আমাদের বাড়ি ভাঙছে, চালকদের মারধর করছে। কোনো চালক ইচ্ছা করে দুর্ঘটনা ঘটায় না। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত গাড়ি বন্ধ থাকবে।”

এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, বাস চালকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসনের চেষ্টা করা হবে।

তবে এ বিষয়ে জামালপুর বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।