সুন্দরবনে মাছ শিকারের মামলায় চার জেলের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি

Sadek Ali
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগে আটক চার জেলের পরিচয়ে গরমিল পাওয়া গেছে। বন বিভাগের দায়ের করা মামলায় তাঁদের যে নাম ও পিতার পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র ও অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে তার মিল নেই। অভিযোগ উঠেছে, নিজেদের বোর্ড লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) রক্ষায় প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ভিন্ন নাম ব্যবহার করেছেন তাঁরা।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কয়রা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সঞ্জয় পাল চার জেলেকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সুন্দরবনের ভোমরখালী অভয়ারণ্যের বড় কুকুমারি খাল থেকে তাঁদের আটক করে বন বিভাগ।

আরও পড়ুন: টঙ্গীতে মধ্যরাতে ভয়াবহ আগুন, পুড়ল ৯ দোকান

মামলায় আসামিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে আবু বকর (৪২), পিতা আবদুল জলিল; আছাদুল (৩০), পিতা আমিরুল গাজী; পীর আলী (২৮), পিতা নুর সরদার এবং কাদের মোল্যা (৫৫), পিতা মালেক মোল্যা। তাঁদের সবার বাড়ি কয়রা উপজেলার ৫ নম্বর কয়রা এলাকায়।

তবে বন বিভাগের দেওয়া ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানে তাঁদের ভিন্ন পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন আবুল বাসার গাজী (৩৫), পিতা আকবার আলী গাজী; মো. হাবিবুল্লাহ হোসেন (৩০), পিতা নুরআলী গাজী; রবিউল ইসলাম (৩৫), পিতা মোছাক মোড়ল এবং হামিদ সানা (৪৫), পিতা আনসার আলী সানা।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাবিবুল্লাহ হোসেনের নামে ২৬২৭০৫০১১৯৮ এবং আবুল বাসার গাজীর নামে ২৬২৭০৫০১২১২ নম্বর বিএলসি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিষ দিয়ে মাছ শিকারের মামলায় নিজেদের লাইসেন্স রক্ষার উদ্দেশ্যে তাঁরা ভিন্ন পরিচয় দিয়েছেন। তবে লাইসেন্স দুটির বর্তমান অবস্থা ও পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, হাবিবুল্লাহ ও আবুল বাসার সুন্দরবন ব্যবস্থাপনা কমিটির এক নেতার চাচাতো ভাই। তাঁরা ওই পরিচয়ের প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও হরিণ শিকারের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আসামিরা কারাগারে থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ভোমরখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ছামাদুল কাদির বলেন, “বিষ দিয়ে মাছ শিকারের সময় চার জেলেকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছে কোনো বিএলসি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাস পারমিট পাওয়া যায়নি। তাঁরা যে নাম বলেছেন, সেই নামেই মামলা করা হয়েছে।”

ভিন্ন পরিচয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, “আসামিরা প্রকৃত পরিচয় গোপন করে থাকলে সঠিক পরিচয় শনাক্ত করে আদালতে সংশোধনের আবেদন করা হবে।”

আটক চার জেলের পরিচয়ে অমিল পাওয়ায় তাঁদের পরিচয় যাচাই ছাড়াই মামলা দায়েরের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিএলসি যাচাই এবং প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে বন বিভাগের পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়টিও সামনে এসেছে।