পানামায় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি আফটারশক

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৬ পূর্বাহ্ন, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪৩ অপরাহ্ন, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। গত ৯ অক্টোবরের ওই ভূমিকম্পের পর দেশটির প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বিভিন্ন স্থানে পরিবর্তন দেখা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব পরিবর্তনের কারণ অনুসন্ধান করছেন বিজ্ঞানীরা।

শুক্রবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লা প্রেসনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পানামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক নেস্টর লুক এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: দুই বছরের মধ্যে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ডের পূর্বাভাস

লুক বলেন, তাত্ত্বিক ধারণা ও অতীতের তথ্য অনুযায়ী, এ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত পরাঘাত চলতে পারে।

তিনি জানান, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটারেরও কম গভীরে। ভূমিকম্পে নির্গত শক্তির প্রভাবে ভূত্বকের টেকটোনিক ব্লকগুলো এখনো নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করছে। তবে ভূকম্পনসংক্রান্ত রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে, পরাঘাতগুলোর মাত্রা ধীরে ধীরে কমছে।

আরও পড়ুন: দায়িত্ব নেওয়ার ৫ দিনের মধ্যেই বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি

লুক আরও বলেন, চিরিকি ও বোকাস দেল তোরো এলাকায় রেকর্ড করা ভূমিকম্পগুলো পৃথক চ্যুতি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এগুলো ৯ অক্টোবরের ভূমিকম্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত—এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে পরিবর্তন

ভূমিকম্পের পর পানামার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কয়েকটি এলাকায় পরিবর্তনের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কিছু স্থানে আগে পানির নিচে থাকা পাথর দৃশ্যমান হয়েছে এবং কোথাও কোথাও সমুদ্রের পানি সরে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

লুক ব্যাখ্যা করেন, ভূত্বকের চ্যুতিতে নড়াচড়ার কারণে উপকূলীয় ভূমি উঁচু হয়ে উঠতে পারে কিংবা নিচে নেমে যেতে পারে। এতে ভূমির উপরিভাগের আকৃতিতেও পরিবর্তন ঘটে।

ভূতাত্ত্বিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরীক্ষা করে দেখবেন, চ্যুতির নড়াচড়ার কারণে এসব পরিবর্তন হয়েছে কি না।

এ ছাড়া কিছু এলাকায় পানির রং বদলে ধূসর হয়ে যাওয়ার খবরও তদন্ত করছেন গবেষকেরা। লুকের ধারণা, ভূমিকম্পের ফলে ভূগর্ভস্থ পানি এমন কিছু খনিজের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারে, যা পানির রং পরিবর্তনের কারণ হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে রাসায়নিক পরীক্ষা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দ্বীপে ফাটল তৈরির অভিযোগ

পানামার দক্ষিণাঞ্চলীয় লস সান্তোস প্রদেশের কানাস দ্বীপের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর দ্বীপটিকে দুই ভাগ হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

লুক জানান, ভূতাত্ত্বিকেরা পরীক্ষা করে দেখবেন, দ্বীপজুড়ে কোনো ফাটল তৈরি হয়েছে কি না এবং সেই ফাটল সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে কি না। এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তা ভূত্বকের চ্যুতিতে নড়াচড়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণব্যবস্থা জোরদারের পরিকল্পনা

পানামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, দেশের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ১৫০টি যন্ত্র প্রয়োজন হবে। আর দেশজুড়ে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় ৭০০টি সেন্সর লাগতে পারে।