বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করছে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী
বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাউল সম্রাট লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আরও পড়ুন: গফরগাঁওয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, লালন সাঁই ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয়ের বিভেদ পেরিয়ে মানুষের মিলনের কথা বলেছেন। তাঁর দর্শনে মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় মনুষ্যত্ব। বর্তমান পৃথিবীতে লালনের এই দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে পরিচয়ের কারণে কেউ অবহেলিত হবে না এবং ধর্মের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। ঘৃণা নয়, ভালোবাসাই হবে মানুষের সম্পর্কের ভিত্তি।
তিনি আরোও বলেন, মত ও পথ আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানবতার প্রশ্নে সবাই এক। ভেদাভেদ নয়, সম্প্রীতি; ঘৃণা নয়, ভালোবাসা; বিভাজন নয়, মানুষের মিলন—লালন সাঁইয়ের দর্শন আমাদের সেই পথই দেখায়।
আরও পড়ুন: হরিরামপুরে হারুকান্দি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন
আফরোজা খানম রিতা বলেন, লালন সাঁই শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও তাঁর গান, দর্শন ও মানবতার বাণী মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। যত দিন মানুষ সত্যের সন্ধান করবে, মুক্তির পথ খুঁজবে এবং মানবতার চর্চা করবে, তত দিন লালন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।
সরকারের সাংস্কৃতিক অঙ্গীকার তুলে ধরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তে বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া, নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া এবং বিশ্বদরবারে আরও পরিচিত করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোর নয়, সংস্কৃতিরও। শেকড়কে ভুলে নয়, শেকড়কে ধারণ করেই এগিয়ে যেতে হবে।
বিএনপির রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণ, অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার রয়েছে বিএনপির রাজনীতিতে। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করে কাজের মাধ্যমে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে চান তাঁরা।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী উম্মে সুমাইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) জেলা কমিটির সদস্যসচিব শামীম বিশ্বাস প্রমুখ।
সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরুলবিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয় ।





