চট্টগ্রাম বন্দরে ৮.৪২ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষর
পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে গ্রীণ পোর্ট ইনিশিয়েটিভ -এর আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং গ্রীনার গার্মেন্টস ইনিশিয়েটিভ এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং জিজিআই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরে আলম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চবক'র বিভিন্ন ভবন ও শেডের অব্যবহৃত ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে প্রায় ৮.৪২ মেগাওয়াট (পীক) উৎপাদন সক্ষমতার অত্যাধুনিক রূফটপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন বন্দর কর্তৃপক্ষ । বেসরকারি বিনিয়োগে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের নিমিত্তে জিজিআই কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। শুরুতে কোনো মূলধনী বিনিয়োগ বা অর্থায়ন করবেনা চবক। তবে পরিবেশবান্ধব এই রুফটপ সোলার প্ল্যান্টটি বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ থেকে পরবর্তী ২০ বছর চট্টগ্রাম বন্দরকে নিরবচ্ছিন্ন সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক তরুণ নিহত, আহত ৩ তরুণ
প্রকল্পটির সার্বিক নকশা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়, নির্মাণ, পরীক্ষা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে বিদ্যুৎ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জিজিআই। বন্দর কর্তৃপক্ষ চুক্তির শর্তানুযায়ী নির্ধারিত স্থির ট্যারিফ হারে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় করবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের দৈনিক প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ এই সৌর প্রকল্প থেকে সংগ্রহ করবে। উপরন্তু, নবায়নযোগ্য জ্বালানীকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং জাতিসংঘের এসডিজি গোল ও প্যারিস চুক্তি অনুসারে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের ক্ষেত্রে এ চুক্তি জোরালো ভূমিকা রাখবে। যা চট্টগ্রাম বন্দরকে সবুজ বন্দর হিসেবে রূপান্তরের ক্ষেত্রে এগিয়ে নিবে। ফলে একাধারে চবক যেমন বিকল্প বিদ্যুতের উৎস পাবে তেমনি জাতীয় গ্রিডের উপর চাপ কমবে।
আরও পড়ুন: উলিপুরে দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতা আব্দুল খালেক
এই সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী ২০ বছরে বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ১০০ কোটি টাকা বন্দরের সাশ্রয় হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ মনে করে, এই উদ্যোগ সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারের নির্দেশনার সাথে যথাযথভাবে সামঞ্জ্যসপূর্ণ হবে এবং চবক আর্থিকভাবে লাভবান হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর শুধু দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবেই নয়, বরং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, গ্রিনহাউস গ্যাস তথা কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে এবং টেকসই বন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও একটি উদাহরণ তৈরি করবে। প্রকল্পটি ভবিষ্যতে জাতীয় গ্রিডের সাথে নেট মিটারিং ব্যবস্থা মাধ্যমে সংযুক্ত থাকবে, এতে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহেরও সুযোগ থাকবে। বিজ্ঞপ্তি।





