খুলনায় দুই খুন
মেয়েকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা, যা বললেন মা
খুলনা নগরীতে একই দিনে পৃথক ঘটনায় দুইজনকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। লবণচরা থানার জিন্নাহপাড়া এলাকায় বাসার সামনে খুশি বেগম (২৪) নামে এক নারীকে গুলি করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, ভোরে পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় গুলিতে নিহত হয়েছেন তুষার নামে এক যুবক।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জিন্নাহপাড়ার ৭ নম্বর রোডের টাওয়ার গলির সামনে খুশিকে হত্যা করা হয়। একই দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পূর্ব বানিয়াখামার খাদেমুল উলুম মাদ্রাসার সামনে গুলির ঘটনায় তুষারের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: গোয়াইনঘাটে ভারতীয় বিস্কিট ও ট্রাক জব্দ, আটক ১
মায়ের সামনে খুশিকে গুলি, পরে কোপানো
নিহত খুশি বেগম জিন্নাহপাড়া এলাকার খোকনের মেয়ে এবং সুমন হাওলাদার ওরফে ব্লেড বাবুর স্ত্রী। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন: সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠনে লতা ইউনিয়নের দুর্গাপূজা হয়ে থাকবে অনন্য দৃষ্টান্ত
খুশির মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যায় বাজার শেষে মেয়েকে নিয়ে রিকশায় বাসার গলির মুখে নামেন তিনি। খুশি আগে রিকশা থেকে নেমে বাসার দিকে এগিয়ে গেলে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাঁদের কাছে যায়। তাদের একজন নিজেকে মিরাজ পরিচয় দিয়ে খুশির কাছে তাঁর স্বামী বাবুর বিষয়ে জানতে চান।
খুশি স্বামীর অবস্থান সম্পর্কে জানেন না বলে জানান। এরপরই একজন তাঁকে গুলি করেন এবং অন্যজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপান বলে অভিযোগ করেন তাঁর মা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টার দিকে বউবাজারের ৭ নম্বর গলির মুখে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন দুই যুবক। খুশি রিকশা থেকে নামার পর তাঁরা তাঁর কাছে যান। একপর্যায়ে একজন তাঁকে গুলি করেন। পরে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আরও একবার গুলি করা হয়। এরপর অপর ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কোপান। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান।
পরে খুশির মা স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাদকসংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানান, মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুর্বৃত্তরা খুশিকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও জানান, খুশির স্বামী সুমন সরদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদকসংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ভোরে গুলিতে নিহত তুষার
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পূর্ব বানিয়াখামার খাদেমুল উলুম মাদ্রাসার সামনে কয়েকজন যুবকের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে গুলির ঘটনা ঘটলে তুষারের পিঠে গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া কাছাকাছি স্থান থেকে গুলির দুটি খোসা উদ্ধার করে পুলিশ।
খুলনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বলেন, তুষার কারাগারে আটক খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। প্রতিপক্ষ গ্রুপের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ওসি লোকমান হোসেন রিপন জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। নিহত তুষারের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে।





