বসতবাড়ি রক্ষায় কাফনের কাপড় পরে অনশনে বীর মুক্তিযোদ্ধা

Shahrier Islam Pallab
অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:২৮ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৬:০৯ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নিজের বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা, সরকারি ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন এবং হামলা ও হুমকির বিচার দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজাহার আলী হাওলাদার। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন ৭৬ বছর বয়সী এই মুক্তিযোদ্ধা।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনশন শুরু করেন তিনি। আজাহার আলী পটুয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা আইডি নম্বর ৬০৩০১০১৫৬।

আরও পড়ুন: জৈন্তাপুরের নতুন ইউএনও আবুল হাসনাত খাঁনের দায়িত্ব গ্রহণ

আজাহার আলীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া একাধিকবার হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সরকারি ঘর বরাদ্দ পেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারণে সেটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হচ্ছে না।

তিনি জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পটুয়াখালী পৌরসভার পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় তাঁর বসতঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। অভিযোগে স্থানীয় কামাল গাজী (৫০), ফারুক গাজী (৪৫), শামীম (৪০), লিটন (৫৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, উঠেছে অর্ধকোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ

বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাহার আলী হাওলাদার বলেন, ‘আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। অথচ আজ নিজের বসতভিটায় নিরাপদে বসবাস করতে পারছি না। দীর্ঘদিন ধরে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ঘর বরাদ্দ পেলেও সন্ত্রাসীদের বাধায় ঘরের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। আমি আমার বসতভিটায় নিরাপদে থাকার নিশ্চয়তা চাই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু মুছা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাকে যে জমি দেওয়া হয়েছে, সেটির মালিক তিনি নন। জমিটি তাঁর না হওয়ায় সেখানে ঘর নির্মাণের কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর নিজস্ব জমি থাকলে সেখানে ঘরের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে তিনি এখনো আবেদন করেননি।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এদিকে জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফ করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও তাঁর বক্তব্য পাননি।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাহার আলী হাওলাদার। বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা, সরকারি ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন এবং হামলা ও হুমকির বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।