টানা দুই বছর ফেল ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজসহ পাস করেনি আরও ৫ প্রতিষ্ঠানেও

Sanchoy Biswas
মো. নুরুল আমীন, নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৮:১১ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নেত্রকোণা জেলা সদরে অবস্থিত নন-এমপিও ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ থেকে টানা দুই বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।

এ বছর চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাঁদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। এর আগের বছরও এ প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেননি।

আরও পড়ুন: সিলেটের দাউদিয়া মাদ্রাসার ২২৫ বছর উদযাপন

শুধু ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজই নয়, নেত্রকোণা জেলায় এবার ছয়টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। ছয়টি কলেজের সব কটিই নন-এমপিওভুক্ত।

গতকাল শনিবার প্রকাশিত ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।

আরও পড়ুন: শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন ভোলার রূপসী দ্বীপ চর কুকরি-মুকরিতে

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চারজন শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন মানবিক এবং একজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁদের সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলে শতভাগ অকৃতকার্যতার চিত্র উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, গত বছর এ কলেজ থেকে দুজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরাও পাস করতে পারেননি। ফলে পরপর দুই বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

কলেজ সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৯ সালে জেলা সদরের একটি গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমি নামে এই প্রতিষ্ঠানটি। শুরু থেকেই শিক্ষার্থী টানতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি।

কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইকবাল হাসান তপু। প্রতিষ্ঠানটিতে কতজন শিক্ষক রয়েছেন, জানতে চাইলে তিনি কিছুটা রাগান্বিত হয়ে বলেন, ‘এটি নন-এমপিও কলেজ। এখানে কোনো নিয়মিত শিক্ষক নেই। যখন যাঁকে প্রয়োজন, ডেকে আনা হয়। তাই নিয়মিত কোনো শিক্ষক নেই। সরকারের কোনো সুযোগ-সুবিধাও এখানে নেই। কয়জন পাস-ফেল করেছে, সেটি তো জানতে পেরেছেন।’ পরে চারজন পরীক্ষা দিয়ে কেউ পাস করেনি বলেও জানান তিনি।

জেলায় শূন্য পাসের তালিকায় থাকা অন্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—কেন্দুয়া উপজেলার গোপালপুর মডেল কলেজ, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ, পূর্বধলার খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা, এম্বিশন মডেল কলেজ ও জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ।

জেলা শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেন্দুয়া উপজেলার গোপালপুর মডেল কলেজ থেকে একজন, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ থেকে তিনজন, খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা থেকে চারজন, এম্বিশন মডেল কলেজ থেকে ছয়জন এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ থেকে ১৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

এবার নেত্রকোণা জেলার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৩ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫ হাজার ৮৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে দ্রুত আলোচনা করা হবে। শিক্ষার্থীরা কেন অকৃতকার্য হয়েছে, তা অনুসন্ধান করা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।