শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন ভোলার রূপসী দ্বীপ চর কুকরি-মুকরিতে

Shahrier Islam Pallab
ইউসুফ আলী প্রধান
প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪৩ অপরাহ্ন, ০১ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইট-কাঠের যান্ত্রিক ব্যস্ততা ছেড়ে নদী, সবুজ বন আর সাগরের অপূর্ব মোহনায় হারিয়ে যেতে চাইলে এবারের শীতকালীন ভ্রমণের দারুণ একটি গন্তব্য হতে পারে ভোলা জেলার চরফ্যাশনের রূপসী দ্বীপ ‘চর কুকরি-মুকরি’। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, নারকেল বাগান, পর্যটন টাওয়ার এবং নদী-সাগরের মিলনমেলায় গড়ে ওঠা এই দ্বীপ পর্যটকদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণের জায়গা।

যাতায়াত: রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১০টার মধ্যে ভোলা জেলার চরফ্যাশনের বেতুয়া লঞ্চ টার্মিনালের উদ্দেশ্যে একাধিক বিলাসবহুল লঞ্চ ছেড়ে যায়। রাতভর মেঘনার বুক চিরে এসব লঞ্চ সকাল ৭টার মধ্যেই বেতুয়া ঘাটে পৌঁছে যায়। লঞ্চে ডেকের ভাড়া ৭৮০ টাকা। এ ছাড়া ধরন অনুযায়ী এসি, নন-এসি এবং ভিআইপি কেবিনের ভাড়া ৪,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: সিলেটের দাউদিয়া মাদ্রাসার ২২৫ বছর উদযাপন

সকালে বেতুয়া ঘাটে নেমে স্থানীয় জনপ্রিয় যান ‘বোরাক’ বা অটো রিকশায় জনপ্রতি ৪০ টাকা ভাড়ায় পৌঁছানো যায় চরফ্যাশন বাসস্ট্যান্ডে। সেখানে স্থানীয় রেস্তোরাঁয় সকালের নাস্তা সেরে নেওয়া যায়।

​সময় থাকলে চরফ্যাশন শহরেই দেখে নেওয়া যায় দৃষ্টিনন্দন চরফ্যাশন টাওয়ার (সাবেক জ্যাকব টাওয়ার), চরফ্যাশন খাসমহল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং চরফ্যাশন শিশু ও বিনোদন পার্ক।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় যুব দিবসে নিবন্ধন সনদ ও সম্মাননা দিলেন প্রতিমন্ত্রী

​চরফ্যাশন থেকে রিকশায় জনপ্রতি ৭০ টাকা ভাড়ায় কচ্ছপিয়া ঘাটে পৌঁছে সেখান থেকে ছোট লঞ্চ, ট্রলার বা স্পিডবোটে চর কুকরি-মুকরি লঞ্চঘাটে যাওয়া যায়। লঞ্চ ও ট্রলারে ভাড়া জনপ্রতি ৯০ টাকা (সময় লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা) এবং স্পিডবোটে ভাড়া ২২০ টাকা (সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিট)। নদীতে ভেসে চরের দিকে এগোতেই দুই পাশের ঘন সবুজ বনাঞ্চল পর্যটকদের সুন্দরবনের আবহে স্বাগত জানায়। চরে চলাচলের জন্য মোটরসাইকেলই প্রধান ভরসা।

চরফ্যাশন উপজেলার একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন চর কুকরি-মুকরি। প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসতি সমৃদ্ধ এই দ্বীপের বাসিন্দাদের মূল পেশা মাছ শিকার হলেও ইদানীং পর্যটন খাতকে অনেকেই জীবিকা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। এখানকার মানুষের আন্তরিক আচরণ ও পর্যটনবান্ধব মনভাব পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

​থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা: ​দ্বীপে রাত্রিযাপনের জন্য ভোলা উপকূলীয় বন বিভাগের ‘কোস্টাল ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট সেন্টার অ্যান্ড রিসোর্ট’সহ বেশ কিছু ছোট-বড় রিসোর্ট রয়েছে। তবে স্থানীয় আবহ ও উষ্ণ সান্নিধ্য পেতে রয়েছে ‘হোমস্টে’ বা পারিবারিক আবাসে থাকার সুবিধা। স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচালনায় চালুকৃত এসব হোমস্টেতে পর্যটকরা নিজ বাড়ির পরিবেশ পান।

​খাবারের তালিকায় পাওয়া যায় ঘরে তৈরি লাল চালের ভাত, পোয়া মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়াসহ টাটকা নদীর মাছের নানা পদ। এ ছাড়া রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকদের জন্য নারকেল বাগান সৈকতে তাবু খাটিয়ে রাতযাপনের সুব্যবস্থাও রয়েছে।

​প্রকৃতি, নদী আর বনের মেলবন্ধনে এক প্রশান্তিময় ছুটি কাটাতে চলতি শীতের মৌসুমেই ঘুরে আসতে পারেন সম্ভাবনাময় এই দ্বীপ থেকে।