অংশ নিয়েছেন দেড় শতাধিক সদস্য

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় ফের যৌথ অভিযান

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৫ অপরাহ্ন, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৫ অপরাহ্ন, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় আবারও সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা-রঙ্গিখালী পাহাড়ি এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়। সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নিয়েছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) একই পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে একটি বন্দিশালা থেকে ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়।

আরও পড়ুন: ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়: ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন

ওই অভিযানের সময় পাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের গোলাগুলি হয়। এতে পাচারকারীদের গুলিতে সেনাবাহিনীর সৈনিক মোহাম্মদ তিতাস শেখ (২৭) নিহত হন। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ফরিদপুরের নগরকান্দায় তাঁর নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়।

এদিকে শুক্রবার টেকনাফ মডেল থানার প্রাঙ্গণে উদ্ধার হওয়া ৫৭ জনকে তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫১ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ছয়জন রোহিঙ্গা।

আরও পড়ুন: স্ত্রীকে দিয়ে দেহ ব্যবসার অভিযোগ, মিজান বললেন ‘অভাবের তাড়নায় করেছি’

এ ঘটনার পর ওই পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির সময় একাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে নিহত ব্যক্তিরা ডাকাত দলের সদস্য, নাকি বন্দিশালা থেকে পালিয়ে যাওয়া ভুক্তভোগী, তা নিশ্চিত নন তিনি। বন্দিশালার কাছেই তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন বলে দাবি করেন শহিদুল।

উদ্ধার হওয়া কয়েকজনের বক্তব্যে মানবপাচার চক্রের প্রতারণা ও বন্দিদশার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান জানান, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে কক্সবাজারে ডেকে নেওয়া হয়। পরে পাহাড়ের একটি আস্তানায় আটকে রাখা হয়। সেখানে আট দিন বন্দি থাকার সময় দুইবার পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি।

আসাদুজ্জামানের ভাষ্য, ওই বন্দিশালায় ৫০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন। তাঁদের সাগরপথে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল। সশস্ত্র ব্যক্তিরা পাহাড়ের আস্তানাটি পাহারা দিতেন। বন্দিদের মোবাইল ফোনসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, রঙ্গিখালী পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সেগুলো উদ্ধার না করা পর্যন্ত সেখানে মরদেহ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।

মানবপাচারকারী চক্রের তৎপরতা পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।