আশুলিয়ায় শ্রমিকদের নিরাপত্তার আশ্বাস ডিআইজির, কাজে ফেরার আহ্বান

Sadek Ali
জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, আশুলিয়া
প্রকাশিত: ৩:০৩ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:৩৯ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় পোশাক কারখানার শ্রমিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেছেন, কারখানা, সড়ক ও শ্রমিকদের আবাসস্থলসহ সর্বত্র পুলিশ নিরাপত্তা দিচ্ছে। নিরপরাধ কোনো শ্রমিককে হয়রানি করা হবে না। একই সঙ্গে শ্রমিকদের কাজে ফেরার এবং বন্ধ কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার জন্য মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে আশুলিয়ার ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান।

আরও পড়ুন: উলিপুরে প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

তিনি বলেন, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভার-আশুলিয়াসহ ঢাকা রেঞ্জের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। হাতেগোনা কয়েকটি কারখানা ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। ডিইপিজেডের সব কারখানাও খোলা রয়েছে এবং উৎপাদন অব্যাহত আছে।

শ্রমিকদের উদ্দেশে ডিআইজি বলেন, যেসব কারখানায় কাজ বন্ধ রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা নির্ভয়ে কাজে ফিরুন। পুলিশ আপনাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেবে। শুধু কারখানার ভেতরেই নয়, কারখানার বাইরে চলাচল এবং আবাসস্থলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে যেসব মালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তাঁদেরও কারখানা খুলে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। পুলিশ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেবে।

আরও পড়ুন: নীলফামারীতে এনসিসি ব্যাংকের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ প্রদান

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, গত ১ নভেম্বর নতুন মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বোর্ডের প্রথম বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাব নেই। বর্তমান সরকারও শ্রমিকবান্ধব। ফলে শ্রমিকদের উচিত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজে ফিরে যাওয়া।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভের বিষয়ে ডিআইজি বলেন, গতকাল সাভারে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে তাঁরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড তাঁদের আন্দোলন নয় এবং এসব ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর দাবি, শ্রমিকদের আবেগকে পুঁজি করে একটি গোষ্ঠী নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, আশুলিয়া ও সাভারে এ-সংক্রান্ত ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কেউই শ্রমিক নন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। এসব ঘটনায় আশুলিয়া ও সাভার থানায় আটটি মামলা হয়েছে। অন্য ঘটনাগুলোতেও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে।

শ্রমিকদের মধ্যে বাসাবাড়িতে ফেরার পর গ্রেপ্তার বা হয়রানির আশঙ্কা নিয়েও কথা বলেন ডিআইজি। তিনি বলেন, শ্রমিকেরা কারখানা, রাস্তাঘাট ও নিজেদের আবাসস্থলে পূর্ণ নিরাপত্তা পাবেন। ইতোমধ্যে শ্রমিকদের আবাসিক এলাকাগুলোতে পুলিশের মোবাইল ও টহল গাড়ি দিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও চলছে। শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পোশাকশ্রমিকেরা দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক যোদ্ধা। তাঁদের শ্রমে রপ্তানি আয় আসে এবং দেশের অর্থনীতি সচল থাকে। তাই শ্রমিকদের আবেগকে ব্যবহার করে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি অনুসরণ করবে। একই সঙ্গে শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণকে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সচেতন ভূমিকা রাখার এবং পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।