কপ-৩১ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৩ অপরাহ্ন, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক করার দাবি জানাবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এ। সম্মেলনের দুই দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স সামিটে’ যোগ দিতে তুরস্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত সফরে তুরস্ক যাবেন এবং সম্মেলনের দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন: পোশাক খাতে অরাজকতা ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে সরকার

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) ৩১তম সম্মেলন বা কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ৩১) আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ার আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের অংশ হিসেবে ১১ ও ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে উচ্চপর্যায়ের ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট’।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্মেলনে জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর প্রতি উন্নত দেশগুলোর দায়িত্ব পালনের বিষয়েও আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করবে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন: ভূমিকম্প মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

তিনি বলেন, জলবায়ু অর্থায়নে ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক ব্যবস্থার পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরা হবে। কারণ, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে যেসব দেশের অবদান খুবই কম, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় তাদের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপানো উচিত নয়।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘কার্বন নির্গমনে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রায় শূন্যের কোঠায় হলেও শেষ পর্যন্ত আমাদেরই এর পরিণতি ভোগ করতে হয়।’ আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তির আওতায় বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিও সম্মেলনে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।

গত ছয় মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নেওয়া পরিবেশ ও জলবায়ুসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগও সম্মেলনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে খাল খনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা। এসব কার্যক্রম জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর এশিয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এবং এর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করছে, তা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।

সফরের বিস্তারিত জানাবে সরকার

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি, সফরসঙ্গীদের তালিকা এবং সম্মেলনে বাংলাদেশের বিস্তারিত আলোচ্য অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, সফরের আগে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হবে।

কপ৩১ সম্মেলনে প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, জলবায়ু অভিযোজন জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন বাড়ানো এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে বৈশ্বিক রূপান্তর এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য করার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

এবারের সম্মেলনে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার জোরদার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা আলোচনা করবেন।

উল্লেখ্য, তুরস্ক কপ৩১ সম্মেলন আয়োজন ও সভাপতিত্ব করবে। অন্যদিকে, সম্মেলনের আলোচনা ও দরকষাকষির মূল সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করবে অস্ট্রেলিয়া।