মামুন খালেদের ক্ষমতা প্রসঙ্গে আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট মুনীর চৌধুরীর চাঞ্চল্যকর তথ্য
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ‘আসিয়ান সিটি’ আবাসন প্রকল্পকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, অবৈধভাবে জলাশয়, খাল, বনভূমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে তিনি তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের তীব্র চাপ, হুমকি এবং বাধার মুখে পড়েন।
স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা বিমানবন্দরের অদূরে প্রায় ২৫০ একর প্রাকৃতিক জলাশয়, সাধারণ মানুষের জমি এমনকি কবরস্থান দখল করে ‘আসিয়ান সিটি’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে রাজউক, প্রশাসন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিক অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর কারাবাস নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা
তিনি জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অভিযানে নেমে প্রকল্পের যন্ত্রপাতি জব্দ করেন, কাজ বন্ধ করে দেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় প্রভাবশালী মহল থেকে তাকে অভিযান বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হয়।
ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, এক পর্যায়ে তৎকালীন পরিবেশমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও তাকে সতর্ক করা হয় এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে হুমকির কথা জানানো হয়। তবে তিনি এসব চাপ উপেক্ষা করে অভিযান চালিয়ে যান এবং প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে জরিমানা আরোপ করে তা আদায় করেন।
আরও পড়ুন: ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ
স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পেছনে প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা ছিল এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার নীরবতায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রযন্ত্রে পেশাদারিত্ব, সততা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তবে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।





