জিম্মি একটি জাতি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপরাধ ও অযোগ্যতার ভয়াবহতা

Sanchoy Biswas
এম. এ. মতিন
প্রকাশিত: ৪:৫৮ অপরাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫৮ অপরাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

একসময় রাজনীতি ছিল জনসেবার সর্বোচ্চ রূপ, একটি মহৎ পেশা, যার মাধ্যমে সমাজ ন্যায়বিচার, সাম্য এবং সম্মিলিত অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেত। তার সর্বোত্তম রূপে রাজনীতি মানে ছিল ত্যাগ, দূরদৃষ্টি ও নৈতিক দায়িত্ববোধ। নেতাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হতো ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার। বাংলাদেশের প্রারম্ভিক স্বপ্নেও রাজনীতি ছিল মুক্তি, মর্যাদা ও রাষ্ট্রগঠনের প্রধান চালিকাশক্তি।

কিন্তু আজ সেই পবিত্র আদর্শ নির্মমভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। সমকালীন বাংলাদেশে রাজনীতি তার নৈতিক দিকনির্দেশনা প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছে। এটি পরিণত হয়েছে স্বার্থপর, লোভী ও চরমভাবে অযোগ্যদের জন্য এক নিষ্ঠুর খেলাঘরে—এক অন্ধকার গহ্বরে, যেখানে ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার নখরে আইন, নৈতিকতা ও জনকল্যাণ পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করা হচ্ছে। জনগণের সেবা করার বদলে রাজনীতি আজ জনগণকে শোষণ করছে। প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিবর্তে তা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষয় করছে। আশার সঞ্চার করার বদলে জন্ম দিচ্ছে ভয় ও হতাশার।

আরও পড়ুন: শীতার্তদের সহযোগিতা দয়ার গল্প নয়, রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যর্থতা

রাজনীতির নৈতিক অর্থের পতন:

একসময় “রাজনীতিবিদ” শব্দটি সম্মান জাগাত। আজ তা সন্দেহ, ক্ষোভ এবং প্রায়শই ঘৃণার জন্ম দেয়। জনমানসে রাজনীতিবিদ আর কোনো দূরদর্শী নেতা বা জনগণের সেবক নন; বরং তিনি একজন চোর, লুটেরা, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, প্রতারক, মাদক ব্যবসায়ী, সহিংস অপরাধী কিংবা বিশৃঙ্খলার উসকানিদাতা। এই ধারণা একদিনে তৈরি হয়নি, কিংবা কেবল প্রচারণার ফলও নয়। এটি দশকের পর দশক ধরে জনগণের বাস্তব অভিজ্ঞতার সমষ্টিগত পরিণতি।

আরও পড়ুন: মানবিক বাংলাদেশের খোঁজে: নির্বাচন, জনমত ও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা

রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী বহু ব্যক্তি রাষ্ট্রকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে এবং জনপদকে ব্যক্তিগত ব্যবসা হিসেবে ব্যবহার করেন। জনস্বার্থের অর্থ ব্যক্তিগত হিসাবে সরিয়ে নেওয়া হয়; উন্নয়ন প্রকল্প পরিণত হয় লুটপাটের যানে; জনগণের দুর্ভোগ রূপ নেয় ব্যক্তিগত মুনাফায়। সাধারণ মানুষ যখন মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও নিরাপত্তাহীনতায় জর্জরিত, তখন রাজনৈতিক এলিট শ্রেণি ক্ষমতা, অর্থ ও দায়মুক্তির আড়ালে বিলাসে ডুবে থাকে।

এর চেয়েও উদ্বেগজনক হলো রাজনৈতিক শ্রেণির বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক দেউলিয়াপনা। তথাকথিত বহু নেতারই নেই পর্যাপ্ত শিক্ষা, নেই সংবিধান, শাসনব্যবস্থা কিংবা আইনের শাসন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা। নৈতিকতা তাদের কাছে অপরিচিত; জবাবদিহি বিরক্তিকর; আর ন্যায়বিচার—একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য হাতিয়ার মাত্র। তবুও তারাই ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে বসে আইন প্রণয়ন করেন, যে আইন তারা নিজেরাই মানেন না; যে ব্যবস্থার অর্থ তারা বোঝেন না, তা পরিচালনা করেন; এবং যে নৈতিকতা তারা নিজেরা লঙ্ঘন করেন, সেটির উপদেশ দেন।

মিথ্যা, ভয়ভীতি ও দুর্নীতির ওপর দাঁড়ানো এই শাসনব্যবস্থা বাংলাদেশকে এক গভীর নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে ঠেলে দিয়েছে। এটি কেবল রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়—এটি একটি সভ্যতাগত সতর্কবার্তা।

রাজনৈতিক অপরাধের কাঠামো:

বাংলাদেশে রাজনীতির অপরাধায়ন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি আকস্মিকও নয়, কিংবা কেবল কিছু ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি কাঠামোবদ্ধ, সংগঠিত এবং গভীরভাবে প্রোথিত ব্যবস্থা।

ক্ষমতার করিডোরে রাজত্ব করে চোরেরা—যারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য বরাদ্দ অর্থ লুট করে নেয়। বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ অর্থ কখনো শ্রেণিকক্ষে পৌঁছায় না; হাসপাতালের অর্থ উধাও হয়ে যায় রোগী দেখার আগেই।

লুটেরারা উন্নয়ন প্রকল্প, দুর্যোগ ত্রাণ ও সরকারি ক্রয়ে লুটপাট চালায়। প্রতিটি সেতু, সড়ক কিংবা আবাসন প্রকল্প হয়ে ওঠে ব্যয় বাড়ানো, কমিশন ও ঘুষের সুযোগ।

ভূমিদস্যুরা নির্বিঘ্নে সরকারি ও বেসরকারি জমি দখল করে—বিশেষত দুর্বল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জমি। নদী, জলাভূমি, বন, সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়নের’ নামে দখল হয়, অথচ প্রকৃত উদ্দেশ্য থাকে ব্যক্তিগত লাভ।

চাঁদাবাজরা রাজনৈতিক ব্যানারে প্রকাশ্যে ত্রাস চালায়—ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, পরিবহন শ্রমিক এমনকি সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও অবৈধ অর্থ আদায় করে। আইনের জায়গা নেয় ভয়; ন্যায়ের জায়গা নেয় পেশিশক্তি।

মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরা রাজনৈতিক সুরক্ষায় দেশের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। সহজ অর্থের লোভে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ধ্বংস হয়ে ওঠে ‘পার্শ্বক্ষতি’।

ধর্ষক ও সহিংস অপরাধীরা, দলীয় পরিচয়ের আড়ালে, অবাধে ঘুরে বেড়ায়; ভুক্তভোগীরা নীরব থাকতে বাধ্য হয়, হুমকির মুখে পড়ে বা আপস করতে বাধ্য হয়। ন্যায়বিচার হয়ে ওঠে বাছাইকৃত, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হয়ে পড়ে পক্ষপাতদুষ্ট।

প্রতারকরা জাল সনদ তৈরি করে, তথ্য বিকৃত করে এবং ফাঁকা স্লোগানে জনগণকে বিভ্রান্ত করে। নীতির জায়গা নেয় মিথ্যা, নেতৃত্বের জায়গা নেয় কারসাজি।

বিভাজনের উসকানিদাতারা ধর্ম, জাতিগত পরিচয় ও অঞ্চলভিত্তিক বিভেদ উসকে দিয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে। ঐক্য তাদের জন্য হুমকি; বিভাজন তাদের লাভ।

প্রতিটি অপরাধ এককভাবে ভয়াবহ। সম্মিলিতভাবে এগুলো গড়ে তোলে এক পরিশীলিত রাজনৈতিক সিন্ডিকেট—একটি অপরাধী বাস্তুতন্ত্র, যা নিজেদের রক্ষা করে, ভিন্নমত দমন করে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখল করে নেয়।

রাষ্ট্র দখল ও প্রতিষ্ঠান ধ্বংস:

বাংলাদেশ আজ কেবল দুর্নীতির শিকার নয়; এটি রাষ্ট্র দখলের শিকার। রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করেছে এমন নেটওয়ার্ক, যারা বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও নির্বাচনব্যবস্থাকে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে ব্যবহার করে।

যে বিচারব্যবস্থা নিরপেক্ষ হওয়ার কথা, তা প্রায়শই রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়। বিরোধীদের হয়রানিতে মিথ্যা মামলা হয়। নির্দোষ মানুষ গ্রেপ্তার, আটক কিংবা গুমের শিকার হয়। আইনি প্রক্রিয়া বিলম্বিত, বিকৃত বা সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়। ভয় হয়ে ওঠে শাসনের প্রধান হাতিয়ার।

প্রশাসন ভোগে রাজনীতিকরণ ও অদক্ষতায়। মেধা উপেক্ষিত হয়; আনুগত্য পুরস্কৃত হয়। সৎ কর্মকর্তারা কোণঠাসা হন, আর দুর্নীতিবাজরা পদোন্নতি পান। জনগণের সেবার জন্য গঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রভুদের সেবায় নিয়োজিত হয়।

ফলে সৎ, শিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক নাগরিকদের জন্য রাজনীতি প্রায় অপ্রবেশযোগ্য হয়ে উঠেছে। যারা সততার সঙ্গে জনজীবনে আসতে চান, তারা অপমান, হুমকি ও বর্জনের মুখে পড়েন। এই ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে শালীনতাকে দূরে ঠেলে দেয় এবং অপরাধকে আকর্ষণ করে।

জিম্মি একটি জাতি:

পরিণতি ভয়াবহ। আজকের বাংলাদেশ যেন নিজের রাজনৈতিক শ্রেণির হাতে জিম্মি। আইনের শাসন দুর্বল। ন্যায়বিচার আপসকৃত। জনআস্থা ভেঙে পড়েছে। দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, জ্বালানি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তায়।

যে রাষ্ট্র মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারে না, সে রাষ্ট্র তার তরুণদের মধ্যমতায় বন্দি করে। যে রাষ্ট্র স্বাস্থ্যসেবা দিতে ব্যর্থ, সে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের যন্ত্রণায় ছেড়ে দেয়। যে রাষ্ট্র মর্যাদা রক্ষা করতে পারে না, সে রাষ্ট্র তার নৈতিক বৈধতা হারায়।

গণতন্ত্র, বিষয়বস্তুশূন্য হয়ে, আচারিক ও ফাঁপা রূপ নেয়। বিশ্বাসযোগ্যতা, জবাবদিহি ও প্রকৃত পছন্দহীন নির্বাচন ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার মহড়ায় পরিণত হয়। রাজনীতি অপরাধে পরিণত হলে গণতন্ত্র হয়ে ওঠে মায়া।

এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী প্রজন্ম পাবে না একটি গর্বিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ; তারা পাবে একটি বিভক্ত, দরিদ্র ও নৈতিকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত সমাজ।

জনগণই চূড়ান্ত ক্ষমতার উৎস:

তবুও হতাশাই নিয়তি নয়। সংকট যত গভীরই হোক, আশা পুরোপুরি নিঃশেষ হয়নি। বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি দলীয় কার্যালয় বা ক্ষমতার প্রাসাদে নয়—তা নিহিত আছে জনগণের মাঝে।

এই দেশ অপরাধীদের হাতে গড়ে ওঠেনি; গড়ে উঠেছে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগে। সংগ্রাম, সহনশীলতা ও সম্মিলিত সাহসে এটি নির্মিত। যারা উপনিবেশবাদ, স্বৈরাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, তারাই আবার ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধার করতে পারে।

কিন্তু পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজন জাগরণ। নীরবতা ভাঙতে হবে। ভয় মোকাবিলা করতে হবে। সত্য বলতে হবে—স্পষ্টভাবে, জোরালোভাবে ও অবিরাম।

রাজনীতি যদি আবার জনগণের সেবার পবিত্র অর্থ ফিরে পেতে চায়, তবে মৌলিক সংস্কার অনিবার্য।

গণতান্ত্রিক ও নৈতিক পুনর্জাগরণের রূপরেখা:

১. মেধা ও শিক্ষাভিত্তিক নেতৃত্ব

জনপদ অযোগ্যদের আশ্রয়স্থল হতে পারে না। প্রার্থীদের জন্য স্পষ্ট শিক্ষাগত, নৈতিক ও পেশাগত মানদণ্ড প্রযোজ্য করতে হবে। নেতৃত্ব কিনে নেওয়া যাবে না—তা অর্জন করতে হবে।

২. রাজনৈতিক দলে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র

অর্থ, পেশিশক্তি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে মনোনয়ন পরিত্যাগ করতে হবে। স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়াই বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে পারে।

৩. জবাবদিহি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা

দুর্নীতি দমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সত্যিকারের স্বাধীন, ক্ষমতাবান ও নির্ভীক হতে হবে। সম্পদ ঘোষণা, তদন্ত ও শাস্তি—কোনো ব্যতিক্রম চলবে না।

৪. শক্তিশালী নাগরিক সমাজ ও স্বাধীন গণমাধ্যম

সাংবাদিক, কর্মী ও হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষা দিতে হবে—নিপীড়ন নয়। অপব্যবহার উন্মোচন ও সত্য রক্ষায় বহুস্তরীয় নজরদারি অপরিহার্য।

৫. যুবসমাজের নাগরিক ও নৈতিক শিক্ষা

শিক্ষাকে হতে হবে বিবেক, সমালোচনামূলক চিন্তা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ গঠনের মাধ্যম। তরুণদের রাজনীতিকে লুট নয়—সেবা হিসেবে দেখতে অনুপ্রাণিত করতে হবে।

এগুলো সৌন্দর্যবর্ধক সংস্কার নয়; এগুলো সামাজিক ও নৈতিক বিপ্লবের ভিত্তি।

নীরবতার মূল্য ও প্রতিরোধের দায়িত্ব:

নীরবতা নিরপেক্ষতা নয়; নীরবতা সহায়তা। অবিচার অপ্রতিবাদিত থাকলে তা বাড়ে। নাগরিকরা উদাসীন হলে অপরাধীরা ক্ষমতায় উঠে আসে।

সাংবাদিকদের লিখতে হবে নির্ভীক সত্যে। শিক্ষকদের গড়ে তুলতে হবে নৈতিক চেতনা। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন তুলতে হবে। শ্রমিক ও কৃষকদের দাবি করতে হবে মর্যাদা। কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে নৈতিক শক্তিকে।

ইতিহাস বলে—জাতি কেবল বাইরের শত্রুতে ধ্বংস হয় না; ভেতরের পচন প্রতিরোধহীন হলে জাতি পতিত হয়।

বিবেকের প্রতি আহ্বান:

বাংলাদেশ যুদ্ধ, বন্যা, দুর্ভিক্ষ ও ষড়যন্ত্র টিকে গেছে। এ দেশের মানুষ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এখন প্রয়োজন নৈতিক সাহস—মূল্যবোধ পুনরুদ্ধার, প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং রাজনীতিকে আবার মহৎ আহ্বান হিসেবে কল্পনা করার সাহস।

প্রতিটি নাগরিকের প্রতি আহ্বান: হতাশায় আত্মসমর্পণ করবেন না। কথা বলুন। সংগঠিত হোন। অংশ নিন। আপনার ভোট ও কণ্ঠস্বর রক্ষা করুন। ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত তাদেরই, যারা নীরব থাকতে অস্বীকার করে।

আজ যদি আমরা লুটেরা ও অপরাধীদের মুখোমুখি দাঁড়াতে সাহস করি, তবে আমরা শুধু নিজেদেরই রক্ষা করব না,আমরা আমাদের জাতির আত্মাকেও রক্ষা করব। লোভ ও অযোগ্যতা থেকে রাজনীতি পুনরুদ্ধার করা কোনো বিকল্প নয়; এটাই আমাদের সবচেয়ে জরুরি জাতীয় দায়িত্ব।

লেখক পরিচিতি: এম. এ. মতিন একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। তিনি বাংলাদেশে গণতন্ত্র, শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক জবাবদিহি বিষয়ে লেখালেখি করেন।