২০২৬ এ এসেও কেনো গুপ্তভাবে রাজনীতি করতে হচ্ছে?

Sadek Ali
মো. শাহেদুল ইসলাম
প্রকাশিত: ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২:১৭ অপরাহ্ন, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

একজন মানুষ দীর্ঘক্ষণ ঘুমের পর জাগ্রত হওয়ার পরও কিছুক্ষণ সময় লাগে তার ঘুমের ঘোর কাটতে, দীর্ঘ বছর এই দেশের রাজনৈতিক দলগুলো স্বৈরাচার আওমীলীগ সরকারের শাসন অধীন ছিলো। নানা প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে রাজনীতি করতে হয়েছে এদেশের বিরোধীদল গুলোকে। ২০০৮ এর জাতীয় নির্বাচনের পর সবাই প্রকাশ্য রাজনীতি করলেও ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে/পরে অনেক রাজনৈতিক দলকে রাজপথে পূর্বের ন্যায় সরব দেখা যায় নি।কিছু কিছু রাজনৈতিক দল দলীয় এবং ব্যাক্তিগতভাবে ব্যবসায় ও শিল্প প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে রাজপথের কর্মসূচিকে পাশ কাটিয়ে চলার নীতিকে ধারণ করে এগুতে শুরু করে। মূলতঃ এরপর থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৎকালীন আওমিলীগ সরকারের বিপরীতে মাঠে সক্রীয় একমাত্র বিরোধীদল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং হাতে গুনা কয়েকটি বাম রাজনৈতিক দলকে দেখা যেত। বিরোধীদল মাঠে না থেকে সরকারি দলের সাথে কৌশলে মিশে যাওয়ার যে বিষয়টা সেটা মূলত সামনে আসে চব্বিশের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনেরও কয়েক মাস পরে।০৫ আগস্টের পর সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে দৈনিক ইত্তেফাক সহ বেশকিছু পত্রিকায় নিউজ হলো “প্ৰকাশ্যে এলেন ঢাবি শিবির সভাপতি সাদিক কাইয়ুম”, “প্ৰকাশ্যে এলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি মোহাইমিন”, একই মাসে প্রকাশ্যে এসেছিলো চট্ট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির, এরপর অক্টবরে প্ৰকাশ্যে এলো জবি ইসলামী  ছাত্রশিবির, জাবি ইসলামী  ছাত্রশিবির, নভেম্বরে প্রকাশ্যে এলো হাবিপ্রবি ইসলামী  ছাত্রশিবির, ডিসেম্বরে নোয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির এবং এভাবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একরকম মঞ্চ নাটকের মতো পর্দার পেছন থেকে সামনে আসা শুরু করলো বাংলাদেশের বর্তমান বিরোধীদল জামাতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা এবং অনেকের ছাত্রলীগ সহ ভিন্ন ভিন্ন সংগঠনের সাথে পূর্বের পরিচয় ও সামনে আসতে লাগলো। মূলত  তখন থেকেই গুপ্ত রাজনীতির বিষয়টি আলোচনায় চলে আসে, এবার যদি আমি আমার লেখা শুরুর দিকে যে কথাটি বলেছিলাম আসলে দীর্ঘদিন এভাবে সরকারি দলের সাথে মিলেমিশে রাজনীতি করার কারনে সেই ঘোর এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি ইতোমধ্যে গুপ্ত সংগঠনের খেতাব পাওয়া এই ছাত্র সংগঠনটি। এখনো বাংলাদেশের আরেকটি বড় ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাদেরকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের পূর্ণাঙ্গ কমিটি সহ জেলা, উপজেলা, মহানগর, থানা কমিটি প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছে।দাবী জানানোর পাশাপাশী ছাত্রদল এই আশংকাও করছে যে ছাত্রশিবির যদি তাদের সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি প্রকাশ করে তাহলে হয়তো দেখা যাবে তাদের অনেক নেতা পূর্বে ছাত্রলীগের বড় কোনো দায়িত্বে ছিলো।মূলত এইজন্যই তারা তাদের কিমিটিগুলো প্রকাশ না করে সময়ে সময়ে শুধুমাত্র সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের প্রকাশ্যে আনেন। সম্প্রতি চট্রগ্রাম সিটি কলেজের দেয়াল লিখনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুনরায় প্রকাশ্য রাজনীতির দাবীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে জোরালো আওয়াজ উঠলো তাতে করে ছাত্র সংগঠনগুলো যারা এতোদিন তাদের কমিটি প্রকাশ করতে পারে নি তারা শিক্ষার্থীদের এই দাবীকে প্রাধান্য দিয়ে কমিটি প্রকাশের উদ্যোগ নেয় কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

সাবেক শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদান, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা