বন্ধ পাটকল চালু করে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রফতানি আয় বাড়াতে কাজ করছে সরকার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:২৯ অপরাহ্ন, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫০ অপরাহ্ন, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

এই বছর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালু করে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রফতানি আয় বাড়াতে সরকার পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি।

২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বন্ধ মিল ইজারা সংক্রান্ত স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) সঙ্গে এক জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি এসব কথা জানান।

আরও পড়ুন: গণমাধ্যমের সহযোগিতায় মানবিক রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বর্তমানে বন্ধ থাকা পাটকলগুলোর অবস্থা, নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং অবশিষ্ট মিলগুলোতে কীভাবে দ্রুত বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায়—এসব বিষয় পর্যালোচনার জন্যই এ সভার আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী জানান, ‘ইতোমধ্যে কিছু পাটকল বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সেগুলোতে বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন, যা বেশ ইতিবাচক।’

আরও পড়ুন: দিল্লিতে রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল, ঢাকায় ফিরলেন তথ্য উপদেষ্টা

পাটকল লিজ দেওয়া প্রসঙ্গে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আরও জানান, আরও ছয়টি পাটকল চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। প্রতিটি মিলেই এক হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছি। এছাড়া মিলভেদে প্রায় ২০০ কোটি থেকে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগ আসবে বলে প্রাথমিক প্রক্ষেপণ আছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী অদূর ভবিষ্যতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল মিলই পুনরায় উৎপাদনমুখী কার্যক্রমে ফিরবে—কিছু পাট খাতে, আবার কিছু ভিন্ন শিল্পখাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে চালু হবে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও আমদানি বিকল্প শিল্প গড়ে উঠবে।’

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, ‘টেক্সটাইল ও পাটকলগুলো পরিদর্শন করছি এবং সার্বিক পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা থেকে দ্রুত কাজ করছি। সরকার বন্ধ পাটকলগুলোকে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে পুনরুজ্জীবিত করে শিল্পগুরুত্বপূর্ণ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।’

এ সময় সভায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, এমপি, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA)-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (BTMC) এবং বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (BJMC)-এর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও বিভিন্ন বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি)-এর অধীনে থাকা ২৫টি পাটকলের কার্যক্রম ২০২০ সালে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০টি মিল লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া হয়, এর মধ্যে ১৪টি মিল ইতোমধ্যে লিজ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ৯টি মিল উৎপাদনমুখী হয়েছে। মিলগুলোতে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।