ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ, ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৪০ অপরাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৫ অপরাহ্ন, ০২ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গ্রাহকের অজান্তে তার নামে ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম সারোয়ার হোসেন (৪০)।

সিআইডি জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি বাণিজ্যিক ভবনের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

আরও পড়ুন: ঢাকায় ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু ৩ নভেম্বর, ফরমের দাম ১০০ টাকা

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি ব্যাংকের কার্ড সেলস বিভাগের সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সারোয়ার হোসেন এক গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ড আবেদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ওই গ্রাহক কার্ডটি ব্যবহার না করে ব্যাংকে ফেরত দিলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি সেটি যথাযথভাবে জমা না দিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন বলে অভিযোগ উঠে।

সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ভুয়া মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করে কার্ডটির যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রাখেন। ফলে কার্ড সংক্রান্ত ওটিপি ও অন্যান্য তথ্য তার কাছেই পৌঁছাত। এ সুযোগে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কার্ডটি ব্যবহার করে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেন।

আরও পড়ুন: শপিং মল ও দোকানপাট খোলার সময়সূচি পরিবর্তনের জোর দাবি

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ভুক্তভোগী ব্যক্তি সম্প্রতি ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনে নিজের নামে একটি ঋণের তথ্য দেখতে পান। অথচ তিনি এ ধরনের কোনো ঋণ গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেন। পরে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকে লিখিতভাবে জানানো হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে।

ব্যাংকের তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৭ সালের শেষ দিক থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ওই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মোট ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকার বেশি লেনদেন করা হয়। এর মধ্যে আংশিক অর্থ পরিশোধ করা হলেও সুদ ও অন্যান্য হিসাবসহ প্রায় ৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সিআইডি আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০১৯ সালে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দিলেও সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন চালিয়ে যান। এতে গ্রাহকের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব ও বিশ্বাসের অপব্যবহার হয়েছে বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সারোয়ার হোসেন অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। একই ধরনের প্রতারণার সঙ্গে তিনি আরও জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।