ব্রাজিলের খেলাকে কেন্দ্র করে আদাবরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, ০২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৫:৫৮ অপরাহ্ন, ০২ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর আদাবর থানার নবোদয় কাঁচাবাজার এলাকায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকের পর হামলায় আবুল বাসার বাদশা (৩০) নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নবোদয় ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত দুজনকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আবুল বাসার বাদশার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজায় ডিএসসিসির ১৬৮ মণ্ডপে অনুদান, বরাদ্দ ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা

নিহত আবুল বাসার বাদশা ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার গফুর মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে আদাবর থানার নবোদয় হাউজিংয়ের বি ব্লকে বসবাস করতেন এবং নবোদয় ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, গত ২৯ জুন ব্রাজিল ও জাপানের ফুটবল খেলা ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরদিন একই বিরোধকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘর্ষ হয়। পরে বুধবার রাত ৮টার দিকে নবোদয় বাজারসংলগ্ন এলাকায় বিরোধ মীমাংসার জন্য একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

তিনি বলেন, বৈঠকের একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে আবুল বাসার বাদশা ও সাদ্দাম হোসেনের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৯ জুন নবোদয় হাউজিং এলাকায় ব্রাজিল ও জাপানের ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় আদাবর থানা বিএনপির সদস্য হাবিব নবোদয় বাজারের ব্যবসায়ী মজনুর ছেলে নীরবকে মারধর করলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। পরদিন সন্ধ্যায় নীরবের ভাই রিপন ও ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মধ্যে আবারও হাতাহাতি হয়। পরে এ ঘটনায় সাদ্দাম হোসেন মোহাম্মদপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এর ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠক শেষে কয়েকজন ধারালো ছুরি ও চাপাতি নিয়ে হামলা চালিয়ে সাদ্দাম হোসেন ও আবুল বাসার বাদশাসহ কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করে।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল বাসার বাদশার মৃত্যু হয়। আহত সাদ্দাম হোসেন বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, রিপন, নীরব, পারভেজ ও মাসুম কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং তারা স্থানীয় ১০০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মিরাজের অনুসারী।