ঢাকায় ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু ৩ নভেম্বর, ফরমের দাম ১০০ টাকা

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:৫৬ অপরাহ্ন, ০২ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৫:৫৬ অপরাহ্ন, ০২ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার স্বল্পগতির রিকশা বা ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে প্রতিটি আবেদন ফরম ১০০ টাকায় সংগ্রহ করা যাবে। নগর ভবন ও ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এসব ফরম বিতরণ করা হবে।

ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানজট কমানো এবং নিরাপদ নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসসিসি। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ জারি করা ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ অনুসরণ করে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সোমবার (২ নভেম্বর) নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: শপিং মল ও দোকানপাট খোলার সময়সূচি পরিবর্তনের জোর দাবি

তিনি বলেন, ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নগরবাসীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে নতুন বিধিমালা অনুযায়ী নিবন্ধন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু আবেদন ফরম সংগ্রহ করলেই নিবন্ধন পাওয়া যাবে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য যানবাহনকেই নিবন্ধন সনদ দেওয়া হবে।

ই-রিকশার নিবন্ধনে যেসব কাগজপত্র লাগবে

আরও পড়ুন: শ্রমিক অসন্তোষে ৬৭০ পোশাক কারখানা বন্ধ, কাজে আসেননি ১৬ লাখ শ্রমিক

ডিএসসিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, নিবন্ধনের আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে—

- জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সত্যায়িত অনুলিপি।

- সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি।

- ফি জমার মূল রসিদ।

- নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেট।

একজনের নামে সর্বোচ্চ পাঁচটি আবেদন

নিবন্ধন কার্যক্রমে একজন ব্যক্তি তাঁর একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন। একই সীমার মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

তবে ফরম সংগ্রহ বা আবেদন জমা দিলেই নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না। আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রতিটি ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা করা হবে। কারিগরি ছাড়পত্র পাওয়াও বাধ্যতামূলক।

চার জোনে ভাগ হবে ডিএসসিসি এলাকা

ই-রিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাকে চারটি জোনে ভাগ করে রুট নির্ধারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে জোনভিত্তিক চলাচল ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হবে। এর মাধ্যমে সড়কে অননুমোদিত ও অনুপযুক্ত যানবাহনের সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে সিটি করপোরেশনের।

ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নতুন বিধিমালার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর দক্ষিণ অংশে পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়েছে সংস্থাটি।