বিশ্ববাজারে আরও কমল স্বর্ণের দর

Any Akter
অর্থবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১৯ অপরাহ্ন, ০৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১:১৯ অপরাহ্ন, ০৮ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা আবারও জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৮ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩২১ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে শুক্রবার স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে গত ২৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়।

আরও পড়ুন: বিএনপি’র ৩১ দফা’র বাজেট অধিবেশন বসছে আজ

একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রত্যাশার চেয়ে ভালো মার্কিন কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে যে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে অথবা প্রয়োজন হলে বাড়াতেও পারে। এর ফলে স্বর্ণের ওপর চাপ বেড়েছে।

আরও পড়ুন: ঈদের পর স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা

এদিকে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বৈরুতের উপকণ্ঠে হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানাবেন।

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার প্রভাবে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বেড়েছে। এতে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি এবং সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

ক্লিভল্যান্ড ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক বলেছেন, সাম্প্রতিক কর্মসংস্থান তথ্য অনুযায়ী মার্কিন শ্রমবাজার বর্তমানে মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং প্রায় পূর্ণ কর্মসংস্থানের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন হলে ফেডকে সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

মে মাসে টানা তৃতীয় মাসের মতো শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এতে ফেডের জন্য সুদের হার বর্তমান অবস্থায় ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

অন্যদিকে, পিপলস ব্যাংক অব চায়নার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে টানা ১৯তম মাসের মতো চীনের স্বর্ণের রিজার্ভ বেড়েছে। বর্তমানে দেশটির স্বর্ণের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ফাইন ট্রয় আউন্সে।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতার কারণে গত সপ্তাহে ভারতে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কম ছিল। একই সময়ে চীনের বাজারেও স্বর্ণের প্রিমিয়াম হ্রাস পেয়েছে। তবে ফটকাবাজ বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণে তাদের নেট লং পজিশন বাড়িয়েছেন, যা ভবিষ্যতে বাজারে নতুন গতি আনতে পারে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম পুনরায় সমন্বয় করা হতে পারে।

এর আগে গত ৬ জুন বাজুস ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭ দশমিক ৫২ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৭৩ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৩১ দশমিক ৫১ ডলারে পৌঁছেছে।