আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমছে
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কায় মূল্যবান ধাতুটির দর কমে গেছে। এর ফলে চলতি সপ্তাহে স্বর্ণ বড় ধরনের সাপ্তাহিক লোকসানের মুখে পড়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ সময় দুপুরে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৮২ ডলারের ঘরে নেমে আসে। সপ্তাহের হিসাবে স্বর্ণের মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
আরও পড়ুন: ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে পণ্যের দামে খুব একটা হেরফের নেই
তবে যুক্তরাষ্ট্রে আগস্ট ডেলিভারির স্বর্ণ ফিউচারের চিত্র ছিল ভিন্ন। এদিন ফিউচার বাজারে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৩ ডলারের বেশি দাঁড়ায়।
বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেলেও পরে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।
আরও পড়ুন: অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নতুন সরকারের প্রথম বড় সুযোগ প্রস্তাবিত বাজেট: সিপিডি
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান মেরেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেইরের মতে, বর্তমানে স্বর্ণের বাজার মূলত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা এখন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিগত বার্তার দিকে গভীর নজর রাখছেন।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি সুদহার আরও বাড়ানোর সংকেত দেয়, তাহলে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচেও নেমে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মে মাসের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজার বর্তমানে ডিসেম্বর মাসে ফেডের সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ হিসেবে মূল্যায়ন করছে।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শিগগিরই একটি শান্তি চুক্তি হতে পারে, যা কার্যকর হলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে ইরান।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণভিত্তিক এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্টের মজুতও কমেছে। সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, তহবিলটির স্বর্ণ ধারণ প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এএনজেড ব্যাংক চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের মূল্য লক্ষ্যমাত্রা ৪০০ ডলার কমিয়ে ৫ হাজার ২০০ ডলার নির্ধারণ করেছে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। রুপার দাম কমলেও প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দর বেড়েছে। বিশেষ করে প্যালাডিয়ামের দাম সপ্তাহজুড়ে প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।





