শাহবাগ মোড় অবরোধে বুয়েট শিক্ষার্থীরা, তিন দফা দাবিতে আন্দোলন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৩৭ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৪:২২ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা সহপাঠী রোকনুজ্জামান রোকনকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে ও তিন দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এতে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুর তিনটার পর শাহবাগে ব্লকেড কর্মসূচি শুরু করেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা স্লোগান দেন— ‘চাকরি চাকরি পরে কর, ইঞ্জিনিয়ার বানান কর’, ‘ব্লকেড ব্লকেড, শাহবাগ ব্লকেড’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’ ইত্যাদি।

আরও পড়ুন: ঢাবির ফলাফল ওয়েবসাইটে ম্যালওয়্যার আক্রমণের অভিযোগ, তদন্তে আইসিটি বিভাগ

অবরোধের কারণে শাহবাগ ও সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। অফিস শেষে ঘরে ফেরার পথে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বনানী ও টেকনিক্যাল মোড়ে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির কারণে সকাল থেকেই রাজধানীতে যানজট দেখা দিলেও বিকেলের এই অবরোধে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

এর আগে আন্দোলনকারীরা দেশব্যাপী ‘ব্লকেড অফ ইঞ্জিনিয়ার্স’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। সেখানে বলা হয়, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক, বুটেক্স, এমআইএসটি সহ প্রকৌশল অনুষদ চালু থাকা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগে যোগ দেবেন। ঢাকার বাইরে ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেস্কো আঞ্চলিক কার্যালয় ঘেরাও এবং ডিসি অফিসের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচি পালন করা হবে।

আরও পড়ুন: ঢাবি-চীনের এসসিএসআইও’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই, সামুদ্রিক গবেষণায় জোরদার সহযোগিতা

এ ছাড়া সোমবার মধ্যরাতে বুয়েট শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। রাত পৌনে ২টার দিকে সাকুরা মোড়ে অবস্থান নিয়ে তারা ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

ট্রিপল ই বিভাগের ২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবিদ বলেন, “আমাদের সিনিয়র ভাইকে জীবননাশের হুমকি ও জিম্মি করে হেনস্তার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি। হুমকিদাতাদের বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”


শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি:


১. নবম গ্রেডে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য বিদ্যমান ৩৩ শতাংশ কোটা বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে।

২. দশম গ্রেডে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য বিদ্যমান ১০০ শতাংশ কোটা বাতিল করে সকলের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।

৩. বিএসসি ডিগ্রি ছাড়া কেউ ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবি ব্যবহার করতে পারবে না, এ নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।