পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে কিশোর ও তরুণদের লাঠি হাতে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। ঘটনার পরদিন ফেসবুকে দুঃখ প্রকাশ করে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও এখন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তিনি।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে সর্বমিত্র চাকমা জানান, শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ তার পদত্যাগ চান না। পাশাপাশি দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরু করা কিছু কাজ এখনও অসম্পূর্ণ থাকায় সেগুলো শেষ করতেই তিনি দায়িত্বে থাকতে চান।
আরও পড়ুন: ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ঢাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি
এদিকে, এ ঘটনায় ছাত্রদল ও বিভিন্ন বাম ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে ডাকসু থেকে বহিষ্কারের দাবি তোলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসু সভাপতির পক্ষ থেকে যদি বহিষ্কারের কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি আসে, তাহলে সেটি নিয়ে আসুক। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে চান না বলেও জানান।
ডাকসুর গঠনতন্ত্রে পদত্যাগ সংক্রান্ত কোনো ধারা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, গঠনতন্ত্রের কোন ধারায় পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ আছে, সে বিষয়ে তার জানা নেই।
আরও পড়ুন: মধ্যরাতে মতিঝিল আইডিয়াল থেকে ৪৬ শিক্ষককে বদলি
তবে ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ১২ নম্বর অনুচ্ছেদের ‘খ’ ধারায় বলা হয়েছে, কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো সদস্য বা পদাধিকারী পদত্যাগ করলে, মৃত্যুবরণ করলে অথবা পদ থেকে অপসারিত হলে, অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতির মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন সর্বমিত্র চাকমা। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন ঘটনায় তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
সবশেষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে আসা কয়েকজন কিশোরকে শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তবে সে সময় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেননি।





