কুবির অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ের অভিযোগ
নবীন শিক্ষার্থীদের ভর্তির আগে থেকেই র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে সেমিনার, ডকুমেন্টারি, মিটিংসহ নানান পদক্ষেপ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, যাতে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা মলিন হয়ে না যায়। এত পদক্ষেপের পরও র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছে অর্থনীতি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের র্যাগ দেন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ইমিডিয়েট সিনিয়ররা। ১৪ এপ্রিল থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত কয়েকবার র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বিভাগের ভুক্তভোগী নবীন শিক্ষার্থীরা। এর ফলে অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে বিভাগ।
আরও পড়ুন: এসএসসি উত্তরপত্র পাঠাতে নতুন নির্দেশনা
এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা নাহিদ ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ব্যাচের (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) ও ইমিডিয়েট সিনিয়র ব্যাচের (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের দুয়েক দিন পরে প্রথমবার দুই ব্যাচের বৈঠক হয়। এর কিছুদিন পর জুনিয়র ব্যাচের গ্রুপে সিনিয়রদের নিয়ে কথা বলার জেরে ক্যাম্পাসে ও ক্যাম্পাসের বাইরে আবারও বসা হয়। সে সময় সিনিয়র ব্যাচের কয়েকজন জুনিয়র ব্যাচের কিছু শিক্ষার্থীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনা দুইবারের বেশি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন: থানার ভেতরে ডাকসু নেতাদের ওপর হামলা: এফআইআর না নেওয়ায় লিগ্যাল নোটিশ
ইমিডিয়েট সিনিয়র ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের সেমিস্টার ফাইনালের তিনটি পরীক্ষা শেষ হয়েছে, আর তৃতীয় পরীক্ষার দিনই স্যার আমাদের এই বিষয়টি জানিয়েছেন। ব্যাচের কিছু ছেলের কারণে এমন হয়েছে, কিন্তু এখন যদি পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়, তাহলে পুরো ব্যাচই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে জানতে অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, আমরা এমন একটি খবর পেয়েছি। যদিও কেউ আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি। আমরা বিষয়টি দেখছি।
পুরো ব্যাচের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি শুধু র্যাগিংয়ের অভিযোগের কারণে হয়নি। পুরো বিভাগের সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সেমিস্টার পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হঠাৎ বন্ধ কেন করা হয়েছে—এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, অর্থনীতি বিভাগ থেকে আমাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে তারা পরীক্ষা বন্ধ করেছে। তবে কোনো কারণ জানানো হয়নি।
হঠাৎ করে সেমিস্টার চলাকালীন অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা স্থগিত করা যায় কিনা—এ বিষয়ে তিনি বলেন, যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাজনিত কোনো কারণ থাকে, তাহলে তা করা যেতে পারে। যতটুকু জানি, তাদের বিষয়টিও শৃঙ্খলাজনিত।
এ বিষয়ে ছাত্র পরামর্শক দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা নাহিদ বলেন, আমিও বিষয়টি শুনেছি। যেহেতু এটি শৃঙ্খলাজনিত ব্যাপার, তাই এটি প্রক্টরিয়াল বডি দেখবে। নবীন ব্যাচ আসার আগেই আমরা সবার সঙ্গে বসেছি এবং র্যাগিংয়ের আগে ও পরে শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করেছি।
তিনি আরও বলেন, কিছু শিক্ষার্থীর কারণে যাতে পুরো ব্যাচ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
আইন বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপক বলেন, একজনের অপরাধের জন্য অন্যজনকে শাস্তি দেওয়া যায় না। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সুস্পষ্ট শাস্তি দেওয়াই আইনের মূলনীতি।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, আমরা বিষয়টি জেনেছি। আমাদের প্রক্টরিয়াল বডি সংশ্লিষ্ট বিভাগের দুইজন শিক্ষককে নিয়ে কাজ করছে। আমরা খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেব।





