শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে ঢাবির হল থেকে শিবিরকর্মী বহিষ্কার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলে এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহফুজকে ছয় মাসের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হলে তার বরাদ্দকৃত আসন বাতিল করেছে হল প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
আরও পড়ুন: ‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন গকসু এজিএস
হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে হলের যমুনা ব্লকের অতিথিকক্ষের পাশের ওয়াশরুম ব্যবহারকে কেন্দ্র করে আবাসিক শিক্ষার্থী আহমেদ শাহরিয়ার নীড়ের সঙ্গে আব্দুল্লাহ আল মাহফুজের বাগ্বিতণ্ডা হয়। নীড় টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
পরে ঘটনাটি মারধরের পর্যায়ে গড়ায় বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে মাহফুজ নীড়কে মারধর করেন এবং তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
আরও পড়ুন: ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হবে লটারিতে, পরীক্ষা নয়
ঘটনার পর বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে হল প্রশাসন। তদন্ত শেষে কমিটি ঘটনায় মাহফুজের সংশ্লিষ্টতার সত্যতা পেয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে তার কর্মকাণ্ডকে বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের শৃঙ্খলাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে মাহফুজকে ছয় মাসের জন্য হল থেকে বহিষ্কার এবং তার বরাদ্দকৃত আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় হল প্রশাসন।
এ ঘটনায় বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও হল প্রাধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে, মাহফুজকে ডাকসু নির্বাচনের সময় ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল জয়ী হওয়ার পর বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গিয়েছিল। তবে তার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ।
তিনি বলেন, মাহফুজের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের কোনো সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে ডাকসু নির্বাচনে তিনি সাদিক কায়েমকে সমর্থন করেছিলেন। তার ভাষ্য, সাদিক কায়েমকে ১৪ হাজার ৪২ জন শিক্ষার্থী ভোট দিয়ে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত করেছেন।
হল প্রশাসনের নোটিশে বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতেই শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে মাহফুজের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।





