‘নিরাপত্তা চাওয়ায় পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র আমার বিরুদ্ধে’: সালমান মুক্তাদির

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪২ পূর্বাহ্ন, ০১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, ০১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কার্যালয়ে হামলার পর নিরাপত্তা চাওয়াকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রযন্ত্র, বিভিন্ন সংস্থা ও গণমাধ্যম তার বিরুদ্ধে একযোগে অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার পরিবর্তে তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচারণার মুখে পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবারকে জড়িয়ে মন্তব্য এবং আর্থিক নথি তলবের মাধ্যমেও তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ফেনীর পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভিডিও বার্তায় সালমান মুক্তাদির বলেন, গত কয়েক দিনে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা, সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পেজ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনি সম্মিলিতভাবে আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে নিজের নিরাপত্তা ও বিচার চাওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মামলা না হওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে সালমান বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি থানায় গিয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার পরও কেন মামলা করা হয়নি, সেই ব্যাখ্যা প্রশাসনের দেওয়া উচিত। তার অভিযোগ, বিচার চাওয়ার পরিবর্তে ঘটনাটিকে গণমাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: আজ ফেনী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জুলাইয়ের গণআন্দোলন প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সালমান। তিনি দাবি করেন, ওই আন্দোলনে যারা দলীয় স্বার্থে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে তিনি একইভাবে আন্দোলন করেননি। তার ভাষ্য, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, সাধারণ মানুষের জন্য নিজের অবস্থান থেকে কথা বলেছেন।

নিজের কার্যালয়ে হামলার বর্ণনা দিয়ে সালমান বলেন, রাজধানীর ভেতরে তার কর্মস্থলে অস্ত্রধারী ও মুখোশধারী একদল ব্যক্তি একাধিক ট্রাকে করে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই কার্যালয়ে তার স্ত্রী-সন্তানরা সময় কাটান এবং সহকর্মীরা কাজ করেন বলেও জানান তিনি।

হামলার বিচার চাওয়ার পরিবর্তে তার মানসিক প্রতিক্রিয়া ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন সালমান। তিনি এটিকে ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার প্রবণতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিকে সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বুধবার দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়।

বিএফআইইউর নির্দেশনায় সালমানের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবের হিসাব খোলার ফরম (এওএফ), গ্রাহকের পরিচিতি-সংক্রান্ত তথ্য (কেওয়াইসি) এবং হিসাব বিবরণী চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হিসাবের সুদ আয় ও উৎসে করের তথ্যও দিতে বলা হয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব তথ্য জরুরি ভিত্তিতে নির্ধারিত ব্যবস্থায় পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। 

ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সালমান মুক্তাদির প্রশ্ন তোলেন, নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলার পরই কেন তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হলো। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তার ব্যাংক হিসাব, চুক্তিপত্র, আর্থিক লেনদেন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের থাকলে তা করা যেতে পারে।

এর আগে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় করা মামলায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং তিনজনকে রিমান্ডে নেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

ঘটনার পর সালমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নিরাপত্তা ও হামলার বিচার নিয়ে বক্তব্য দেন। পরবর্তী সময়ে তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়ার ঘটনা এবং এ নিয়ে তার প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।