নির্বাচন ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানাল ইসি
ভোটের দিন জঙ্গি হামলাসহ যে কোনো সহিংসতায় কমিশন সচেতন আছে : ইসি সানাউল্লাহ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে জঙ্গি হামলাসহ যে কোনো ধরনের সহিংসতা মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো এবং সারাদেশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে আজ মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ ( অব.) । তিনি জানান, নির্বাচনকে ঘিরে কমিশন সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে এবং মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভোটের দিন প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের হার জানাবে ইসি
৮৫০টির বেশি অস্ত্র উদ্ধার:
অস্ত্র উদ্ধার ও জঙ্গি আশঙ্কা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে ৮৫০টির বেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব অস্ত্রের একটি বড় অংশ নির্বাচনে সহিংসতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল। কুমিল্লা, ঢাকা, যশোর ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ
তিনি বলেন, “দুষ্টচক্র থেমে নেই, তবে আমরাও প্রস্তুত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত অত্যন্ত সফলভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।”
নিরাপত্তায় নজিরবিহীন মোতায়েন: ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে
নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ২ হাজার ১০০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।
প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন (UAV), বডি অন ক্যামেরা ও ব্যাপক সিসিটিভি নজরদারি। ইসি সানাউল্লাহ জানান, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে, বাকি কেন্দ্রগুলোতেও কাজ চলমান।
২৯৯ আসনে ভোট, ৫০ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত
তিনি জানান, একটি আসনে ভোট স্থগিত থাকায় এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৯৯টি আসনে। ভোটগ্রহণ চলবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। নির্ধারিত সময় শেষে কেন্দ্র প্রাঙ্গণে অপেক্ষমাণ ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৯৫৮টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৪২ হাজার ৬৫৯টি কেন্দ্রে সশরীরে ভোটগ্রহণ এবং ২৯৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে। ভোটকেন্দ্রগুলোর প্রায় ৫০ শতাংশকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
৫০ দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ২,০২৮ প্রার্থী, নারী প্রার্থী ৮১ জন
নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ৮১ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন বলে জানান কমিশনার।
সাংবাদিকদের মোবাইল ব্যবহারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়, নীতিমালা অপরিবর্তিত
মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে তৈরি বিভ্রান্তি দূর করে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের জন্য জুলাই মাসে প্রণীত নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। সাংবাদিকরা কেন্দ্রে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে পারবেন। তবে গোপন কক্ষে প্রবেশ, লাইভ সম্প্রচার এবং সাক্ষাৎকার গ্রহণ নিষিদ্ধ থাকবে।
একই সঙ্গে গণনা হবে সংসদ ও গণভোটের ব্যালট:
ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল একই সঙ্গে গণনা ও প্রকাশ করা হবে। কেন্দ্র পর্যায়ে ফল ঘোষণার পর ধাপে ধাপে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হবে। অধিকাংশ আসনের ফলাফল মধ্যরাতের মধ্যেই পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সহিংসতা হলে ভোট সাময়িক বন্ধের বিধান, পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত:
ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুনরায় ভোট শুরুর বিধান রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আহ্বান:
শেষে নির্বাচন কমিশনার বলেন, “রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার ও সমর্থক—সবার সহযোগিতায় আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই।”





