বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক তৃতীয় দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়: লোকসভায় নয়াদিল্লি
বাংলাদেশকে ঘিরে আঞ্চলিক রাজনীতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়ে ভারতের সংসদে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এসব প্রশ্নের জবাবে ভারত সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের দ্বারা প্রভাবিত নয় এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে সরকার নিয়মিত নজর রাখছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) লোকসভায় বাংলাদেশ সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে জুমার নামাজে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ৩২
তাকে প্রশ্ন করা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক কি স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে এবং পাকিস্তান কি এই পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে—যা ভারতের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
এর জবাবে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল লক্ষ্য জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়ন এবং বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বৈঠক ও মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছে সৌদি আরব, কিনতে পারছেন যাঁরা
পাকিস্তান কোনো সুবিধা নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,
“বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় ভারতের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত, সেগুলোর ওপর সরকার সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আরেক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি ভারত সরকার ধারাবাহিকভাবে উত্থাপন করে আসছে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজে কথা বলেছেন এবং গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গ তুলেছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো ভারত সরকার নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।
তবে কীর্তি বর্ধন সিং স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুসহ সব নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সে দেশের সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের অগ্রগতি সরকার নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করে থাকে। এর মধ্যে প্রতিবেশী অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত।
তিনি আরও জানান, ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতির আওতায় ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপ, উন্নয়ন সহযোগিতা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, বাণিজ্য ও সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পর্ক জোরদার করছে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে ভারত সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।





