জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পথে, প্রস্তুতিতে জেডি ভ্যান্স

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৩৩ অপরাহ্ন, ১২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩৩ অপরাহ্ন, ১২ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভাকে কেন্দ্র করে চলমান আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ইউরোপমুখী মার্কিন বিমানবাহিনীর চারটি সি-১৭ পরিবহন বিমান যাত্রা করেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, এসব ফ্লাইট সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা চুক্তি-সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের জেনেভা সফরের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিক নিহত, ইরানের শোক

আলোচনায় থাকা খসড়া সমঝোতা প্রস্তাবে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার জন্য নতুন একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত কোনো ট্রানজিট ফি ছাড়াই প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখা হবে এবং এক মাসের মধ্যে যুদ্ধপূর্ব নৌ চলাচল পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে ‘বড় সমঝোতা’, চলতি সপ্তাহেই শান্তিচুক্তি হতে পারে: ট্রাম্প

বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ কাঠামো ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী একটি বিস্তৃত চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি দেখাতে পারলে ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এর অংশ হিসেবে সীমিত পরিসরে তেল রপ্তানির অনুমতিও বিবেচনায় রয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে খুব শিগগিরই একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, খসড়া নথিটি ইরানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। তবে দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক সম্মতি এখনও বাকি রয়েছে।

আলোচনার অগ্রগতিতে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও জানা গেছে। উভয় পক্ষ চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে সম্ভাব্য এই সমঝোতা ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ নামে পরিচিত হতে পারে।

আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, চুক্তির মূল নীতিমালা ও ভাষা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর ও অনুমোদনের আগে এটিকে চূড়ান্ত সমঝোতা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।