ভোটের আগে মহাসড়কে যাত্রী দুর্ভোগ: অতিরিক্ত ভাড়া, চাপাচাপি ও বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা

Any Akter
আহমেদ শাহেদ
প্রকাশিত: ৩:২০ অপরাহ্ন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীসহ আশপাশের শহর ও মহাসড়কে ভোটের আগের দিনও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের অবস্থা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে অনেক মহাসড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতায় তা যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে না। বাস ও মাইক্রোবাস মালিকরা সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন, নিরাপত্তা উপেক্ষা করছেন এবং যাত্রীদের চাপাচাপি সহ্য করতে হচ্ছে।

সাভার বাসষ্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা একজন যাত্রী অভিযোগ করেন, গুলিস্থান যেতে চাচ্ছিলেন, কিন্তু বাসে ওঠার আগে ভাড়া ঠিক করা হয়নি। যাত্রা শুরু হওয়ার আগে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। কেউ কিছু বলার সাহস রাখে না। ভোটের আগে এমন পরিস্থিতি মানতে পারছেন না তিনি। অনেকে বলছেন, বিশেষ করে ছোট মেয়েরা, বৃদ্ধরা এবং নারী যাত্রীরা উপচে পড়া ভিড়ে ভয় পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: ভোটের দিন প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের হার জানাবে ইসি

ঢাকার যাত্রাবাড়ি বাসষ্ট্যান্ডেও একই চিত্র। সীমিত সংখ্যক বাস চললেও যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, অতিরিক্ত ভাড়া এবং নিরাপত্তাহীনতা চোখে পড়ছে। এক যাত্রী বলেন, গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে আমাদেরকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে, আর বিকল্প নেই।

যাত্রাবাড়ি থেকে আসা এক গণমাধ্যমকর্মী মো. জিহাদ হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, নির্বাচনের মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও মহাসড়কে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ সীমার বাইরে। অতিরিক্ত ভাড়া, ভিড় ঠেলাঠেলি এবং নিরাপত্তাহীনতা চোখে পড়ছে। ট্রাফিক ও প্রশাসনের নজরদারি যথেষ্ট নয়।

আরও পড়ুন: ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও সকাল থেকেই একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাসের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং নিরাপত্তাহীনতা সাধারণ যাত্রীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে। স্থানীয়রা বলছেন, এটা শুধু অস্বস্তির বিষয় নয়, জীবন ঝুঁকিরও বিষয়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে গাড়ি চালকের শর্তে রাজি হচ্ছেন। স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়ম আছে, কিন্তু তা যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে না। মালিকরা সুযোগ খুঁজছে।

অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া, ভিড় ঠেলাঠেলি এবং নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ নতুন নয়, তবে নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ট্রাফিক ও প্রশাসনের তদারকি সীমিত হওয়ায় অনেক সময় চালক ও মালিকদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া কার্যক্রম চলে। একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন থাকলেও তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা বা প্রতিবাদ করার সুযোগ নেই। ফলে মালিকরা নিজেদের শর্তে ভাড়া ও যাত্রী পরিবহন করছে।

নির্বাচনের আগে এই ধরনের যাত্রী শোষণ সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারকে হরণ করছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ভোটের দিন নাগরিকদের নিরাপদ ও সুষ্ঠু চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অপরিহার্য। তারা সতর্ক করেছেন, নির্বাচনের সময় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও চলাচল নিশ্চিত করা না হলে ভোটের আগেই মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, ভোটের অধিকার প্রয়োগের জন্য নিরাপদভাবে চলাচল করা প্রয়োজন। এক শিক্ষার্থী বলেন, যদি নিরাপদ পরিবহন না থাকে, তাহলে ভোট কেন্দ্রে পৌঁছানোও কঠিন হবে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকেই ভোট দিতে যেতে পারবে না।

নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ শুধু আর্থিক নয়, মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। ভোটের অধিকার রক্ষা করতে হলে সাধারণ মানুষকে নিরাপদভাবে চলাচলের নিশ্চয়তা দিতে হবে। ভোটের দিন নাগরিকদের নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবহন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগের কঠোর তদারকি অপরিহার্য। নাগরিকদের কাছে বার্তা স্পষ্ট, ভোটের আগে মানুষের দুর্ভোগ কমানো না হলে ভোটের অধিকার প্রয়োগের পথও জটিল হয়ে পড়বে।