ক্ষমতায় এলে চাঁদাবাজি-ঘুষের সাহস পাবে না কেউ: জামায়াত আমির

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ন, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩৩ অপরাহ্ন, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহ যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন, তাহলে চাঁদাবাজি ও ঘুষের সংস্কৃতির অবসান ঘটানো হবে। দেশের কোথাও কেউ আর অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের সাহস পাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

আরও পড়ুন: তারেক রহমানের নির্বাচনী এলাকা ভাষানটেক ক্যান্টনমেন্ট থানার বিশাল শোডাউন

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে দেশের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, শ্রমিক, কৃষকসহ কেউই জুলুমের বাইরে ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, সিলেট শাহজালাল (র.)–এর আদর্শের ভূমি। অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে তিনি যেভাবে মজলুমের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই পথেই জামায়াত রাজনীতি করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলার কারণে জামায়াতের বহু নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে আহত ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

আরও পড়ুন: ‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’ গড়তে ধানের শীষে সমর্থন চাইলেন তারেক রহমান

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জামায়াত প্রতিশোধের রাজনীতিতে যায়নি। কোনো বিজয় মিছিল না করে সেজদায় পড়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার হয়েছে। এসব অর্থ জনগণের সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রবাসী-নির্ভর এলাকা হওয়া সত্ত্বেও অঞ্চলটি গ্যাস, বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, নদীভাঙন ও ড্রেনেজ সমস্যায় ভুগছে। বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়। মাদক, সন্ত্রাস ও অস্ত্রের বিস্তার নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এসব অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে জামায়াত আমির বলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ করা হবে, প্রবাসীদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে এবং নদীবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি চা শ্রমিকদের দায়িত্ব সরকার নেবে এবং জলাশয় দখল বন্ধ করা হবে বলেও তিনি জানান।

নিজের পরিচয় তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি সিলেটেই বেড়ে উঠেছেন ও কর্মজীবন গড়ে তুলেছেন। দলীয় পরিচয়ের বাইরে একজন স্বজন হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়াতে চান। জনগণকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতার মালিক নয়, জনগণের পাহারাদার হতে চায়।

জনসভায় মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও শাহজাহান আলী এবং জয়নাল আবেদীনের যৌথ সঞ্চালনায় জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য দেন। পরে জোটপ্রার্থীদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।