কোটি টাকার মালিক হয়েও সাধাসিধে জীবনযাপন ছিল নানা পাটেকরের

Shahrier Islam Pallab
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ন, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৭:২৫ অপরাহ্ন, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

অভিনয় দিয়ে বিপুল জনপ্রিয়তা ও অর্থ-সম্পদ অর্জন করেছিলেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার। তবে তারকাখ্যাতির বিপরীতে ব্যক্তিগত জীবনে বেশ সাদাসিধে জীবনযাপন করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন তিনি। কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েও মুম্বাইয়ের ছোট একটি ১ বিএইচকে ফ্ল্যাটে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন এই অভিনেতা।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে প্রায় ৭৫০ বর্গফুটের ওই ফ্ল্যাটটি বহু বছর আগে মাত্র ১ দশমিক ১ লাখ রুপিতে কিনেছিলেন নানা। বর্তমানে যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি রুপি। মা নির্মলা পাটেকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ওই বাসাতেই থাকতেন তিনি।

আরও পড়ুন: প্রকাশ পেল ‘প্রেমের সমাধি ২.০’

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মায়ের মৃত্যু হয়। এরপরও মুম্বাইয়ে থাকলে পুরোনো সেই ফ্ল্যাটেই অবস্থান করতেন নানা। অভিনয়ের কাজের কারণে তাঁকে মুম্বাইয়ের পাশাপাশি পুনে ও গোয়াতেও নিয়মিত যাতায়াত করতে হতো।

নানার সম্পদের তালিকায় শুধু মুম্বাইয়ের ওই ফ্ল্যাটই ছিল না। পুনের কাছে খড়কবাসলায় প্রায় ২৭ একর জমির ওপর একটি ফার্মহাউসও ছিল তাঁর। সেখানে কৃষিকাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। গম, ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হতো সেখানে। কৃষক ও শ্রমিকদের সঙ্গে চাষাবাদ থেকে পাওয়া অর্থ ভাগ করে নেওয়ার বিষয়েও তাঁর সুনাম ছিল।

আরও পড়ুন: মৃত্যুর আগে বন্ধুকে নানা পাটেকরের মেসেজ, ‘শরীরটা ভালো লাগছে না’

নানার এই সাধারণ জীবনযাপনের পেছনে ছিল তাঁর শৈশবের কঠিন অভিজ্ঞতা। ১৯৫১ সালে মহারাষ্ট্রের মুরুদ-জঞ্জিরায় জন্ম নেওয়া নানার পরিবার একসময় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিল। তাঁর বাবা গজানন পাটেকর কাপড়ের ব্যবসা করতেন। কিন্তু এক আত্মীয়ের প্রতারণার কারণে পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে।

পরিবারকে সহায়তা করতে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই কাজে নেমে পড়তে হয়েছিল নানাকে। স্কুল শেষে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে সিনেমার পোস্টার আঁকতেন তিনি। এর বিনিময়ে মাসে প্রায় ৩৫ রুপি ও খাবার পেতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শৈশবের সেই সংগ্রাম পরবর্তী জীবনেও তাঁর মানসিকতা ও জীবনদর্শনে প্রভাব ফেলেছিল।

অভিনয় অবশ্য শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবন বদলে দেয়। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। বিদু বিনোদ চোপড়ার ‘পরিন্দা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা সহ-অভিনেতার সম্মান পান।

এরপর ‘প্রহার’, ‘অঙ্গার’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তিরঙ্গা’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘আব তক ছাপ্পান’, ‘অপহরণ’ ও ‘নটসম্রাট’-এর মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়। রাগ, ক্ষমতা, অসহায়ত্ব কিংবা গভীর মানসিক দ্বন্দ্ব—বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের স্বতন্ত্র ধারার প্রমাণ দেন তিনি।

ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়েও অভিনয় চালিয়ে গেছেন নানা পাটেকার। ‘হাউসফুল ৫’-এ অক্ষয় কুমার, অভিষেক বচ্চন ও রিতেশ দেশমুখের সঙ্গে অভিনয় করেন। ‘ও’ রোমিও’ এবং ‘সুবেদার’ সিনেমাতেও তাঁকে দেখা গেছে।

ব্যক্তিগত জীবন অবশ্য বরাবরই আড়ালে রাখতে চেয়েছেন এই অভিনেতা। ১৯৭৮ সালে নীলকান্তি পাটেকারকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। পরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তাঁদের দুই সন্তানের মধ্যে একজন শৈশবেই মারা যায়। জীবিত ছেলে মালহার পাটেকর।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে পদ্মশ্রীসহ একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন নানা পাটেকার। কিন্তু খ্যাতি ও সম্পদের শিখরে পৌঁছেও বিলাসী জীবনযাপনের দিকে ঝোঁকেননি তিনি। মুম্বাইয়ের ছোট্ট সেই ১ বিএইচকে ফ্ল্যাট এবং পুনের ফার্মহাউস যেন তাঁর সংগ্রাম থেকে সাফল্যে পৌঁছানোর গল্পেরই নীরব সাক্ষী হয়ে ছিল।