ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি
অস্থায়ী সুরক্ষায় থাকা অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস-টিপিএস) নিয়ে অবস্থানরত অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের বৈধ উপায় খুঁজে নিতে অথবা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন।
রোববার (২৮ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলি প্রযুক্তির যুদ্ধসরঞ্জাম সৌদি-কাতারের হাতে, দাবি হারেৎজের
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক বিভক্ত রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে লাখ লাখ হাইতিয়ান ও সিরীয় অভিবাসীর অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) বাতিলের অনুমতি দেয়। এই রায়ের পরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে নতুন বার্তা দেওয়া হলো।
মার্কওয়েন মুলিন বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চান, তাদের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। অন্যথায় সরকার তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করবে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে আরামকোর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ১৪
তিনি জানান, স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে আগ্রহীদের বিমান ভাড়ার পাশাপাশি নতুনভাবে জীবন শুরু করতে প্রায় ২ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, "অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদার নাম থেকেই বোঝা যায়, এটি কখনোই স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা নয়।"
মার্কিন আইনে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অন্যান্য মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাগরিকদের সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। অতীতে একাধিকবার এই সুরক্ষার মেয়াদ বাড়ানো হলেও বর্তমান প্রশাসন তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখনও ব্যাপক সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হাইতি ও সিরিয়ায় ভ্রমণের বিরুদ্ধে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে রেখেছে।
২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতির নাগরিকদের এবং ২০১২ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য প্রথম টিপিএস সুবিধা চালু করা হয়েছিল।
এদিকে, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ওহাইও অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত হাইতিয়ান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীদের পোষা প্রাণী খাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত জাতিগত বৈষম্যমূলক ছিল—এমন অভিযোগ মামলাকারীরা আদালতে প্রমাণ করতে পারেননি।
সূত্র: রয়টার্স





