বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
বাংলাদেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য ১১০ কোটি ডলারের জরুরি ঋণ সহায়তা অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারে মূল্য ও সরবরাহের অস্থিরতা মোকাবিলা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণে এই অর্থ সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিশ্বব্যাংক এ অর্থায়নের অনুমোদন দেয়। সংস্থাটির ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি ৫,৪৮২ টাকা
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যাঁ পেসম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক আর্থিক চাপ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। এর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ক্ষুদ্র কৃষক, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর।
তিনি বলেন, এই সহায়তা ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি মানুষের জীবিকা, কর্মসংস্থান এবং জরুরি জনসেবা সচল রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আরও পড়ুন: শুক্রবার ৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না ফতুল্লা-মুন্সিগঞ্জসহ ৬ এলাকায়
সার আমদানিতে বড় সহায়তা
'ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট'-এর আওতায় ২০২৬ সালের আমন ও ২০২৬-২৭ সালের বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানি করা হবে। প্রকল্পটির আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন অত্যাবশ্যকীয় সার আমদানিতে অর্থায়ন করা হবে, যার অর্ধেকই হবে ইউরিয়া।
এর ফলে দেশের প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের ধান উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার সুলেমান কুলিবালি বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে। সারের সংকট দেখা দিলে খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপরও গুরুতর প্রভাব পড়তে পারত।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও জ্বালানি খাতে ব্যয়
'কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট'-এর আওতায় অর্থের বড় অংশ দ্রুত ছাড় করা হবে। এই তহবিলের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা এবং জীবিকা পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে ব্যয় হবে।
এছাড়া খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি সেবা সচল রাখতে জ্বালানি খাতেও অর্থ ব্যয় করা হবে। চলতি ৩০ জুনের মধ্যেই এই অর্থ ছাড় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার লেসলি জেন ইউ কর্ডেরো বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এই জরুরি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।





