ভারতকে চ্যালেঞ্জ করায় ক্ষমতা হারালেন নেপালের প্রধামন্ত্রী

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:১৪ পূর্বাহ্ন, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৩:১৪ অপরাহ্ন, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতবিরোধী অবস্থান নেওয়ার কারণেই প্রধানমন্ত্রীর পদ হারাতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নেপালের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) জেন-জির বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন অলি। তার দেশত্যাগের গুঞ্জন উঠলেও বর্তমানে তিনি নেপালের সেনাবাহিনীর শিবপুরি ব্যারাকে অবস্থান করছেন।

আরও পড়ুন: ব্যারিকেড সরানোসহ ইন্টারনেট ও গণপরিবহন স্বাভাবিক করার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

বুধবার নিজ দলের মহাসচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, “যদি লিপুলেখ ইস্যুতে প্রশ্ন না তুলতাম এবং অযোধ্যা ও দেবতা রামকে নিয়ে মন্তব্য না করতাম, তাহলে হয়তো আমি এখনও ক্ষমতায় থাকতাম।”

লিপুলেখ নিয়ে ভারত-নেপালের দ্বন্দ্ব

আরও পড়ুন: যে শর্তে মুক্তি পেলেন সিজেপির তিন নেতা

কালাপানি ও লিপুলেখ অঞ্চলের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধে আছে ভারত ও নেপাল। ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি অনুযায়ী কালী নদীর উৎসকে কেন্দ্র করে সীমান্ত নির্ধারণ হলেও দুই দেশের দাবি ভিন্ন। নেপালের মতে, নদীর উৎস লিম্পিয়াধুড়া থেকে, ফলে কালাপানি ও লিপুলেখ তাদের ভূখণ্ড। অপরদিকে ভারত দাবি করে, নদীর উৎস কালাপানি গ্রামের কাছে, যা তাদের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের অংশ।

অলির নেতৃত্বে নেপালের সরকার এ বিষয়ে কড়া অবস্থান নেয় এবং চীনকেও জানায় যে অঞ্চলটি তাদের ভূখণ্ড। তবে ভারত এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে লিপুলেখ দিয়ে বাণিজ্য চালিয়ে যায়।

রাম জন্মভূমি নিয়ে বিতর্ক

২০২০ সালে অলি দাবি করেছিলেন, দেবতা রাম ভারতের নয়, বরং নেপালের বাসিন্দা। তার মতে, প্রকৃত অযোধ্যা নেপালের বীরগঞ্জে অবস্থিত, ভারত কৃত্রিমভাবে একটি ‘ভুয়া অযোধ্যা’ তৈরি করেছে।

তিনি যুক্তি দেন, “প্রাচীন আমলে দূরের রাজ্যে বিয়ের প্রচলন ছিল না। তাই ভারতের রামের সঙ্গে নেপালের সীতার বিয়ে হওয়ার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। রাম নেপালেরই সন্তান।”