ইরানে টানা দুই রাত সহিংস বিক্ষোভ, তেহরানে মসজিদে অগ্নিসংযোগ
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা দুই রাত ধরে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলন ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা তেহরানের একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব-পূর্ব রাজতান্ত্রিক পতাকা উড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসকে তেহরানের সা’দাত আবাত এলাকার ৬০ বছর বয়সী এক নারী জানান, তিনি নিজেও টানা দ্বিতীয় রাত রাস্তায় ছিলেন এবং বিক্ষোভকারীদের মসজিদে অগ্নিসংযোগ করতে দেখেছেন। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার রাতেও মাসহাদ, তাবরিজ, উরুমিয়াহ, ইস্ফাহান, কারাজ ও ইয়জদসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করল সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিবিসি ফার্সির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন এবং শাহ আমলের রাজতন্ত্রের পক্ষে জয়ধ্বনি করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন থেকে সাধারণ মানুষকে বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তায় অভিভাবকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, তারা যেন সন্তানদের রাস্তায় যেতে না দেন। একই সঙ্গে সংঘর্ষে হতাহতের জন্য প্রশাসন দায়ী থাকবে না বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষ রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পকে খুশি করতে দেশে সহিংস কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা: খামেনি
তেহরানের এক প্রকৌশলী আমির রেজা জানান, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করছে। এক পর্যায়ে সিভিল পোশাকে থাকা মিলিশিয়া ও পুলিশ সদস্যরা সরাসরি গুলি চালাতে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই অস্থিরতার সূচনা হলেও তা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শুধু গত বৃহস্পতিবারেই তেহরানে ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী গুলিতে নিহত হয়েছেন। টানা ১৩ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
এদিকে ইরান সরকার এই সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ জানিয়েছে। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটনের উসকানিতেই পরিস্থিতি রক্তাক্ত রূপ নিয়েছে। অপরদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান সরকার যদি সাধারণ মানুষের হত্যা বন্ধ না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও আন্তর্জাতিক চাপ—এই দুইয়ের মুখে পড়ে ইরানের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে।





