ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহত বেড়ে ৫৩৮
ইরানে টানা ১৫ দিন ধরে চলা তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন এবং ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, প্রকৃত হতাহত ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এইচআরএএনএ জানায়, গত তিন দিন ধরে দেশজুড়ে ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক কল পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রাজধানী তেহরানের বড় বড় হাসপাতালের মর্গ ইতোমধ্যে মরদেহে পূর্ণ হয়ে গেছে এবং নতুন লাশ গ্রহণ করতে না পেরে অনেক মরদেহ ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: হাসপাতালে 'লাশের স্তুপ', চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা
হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ও নিহতদের ভিড়ে হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। মর্গে স্থান সংকুলান না হওয়ায় হাসপাতাল প্রশাসন চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
এখন পর্যন্ত ইরান সরকার হতাহতের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) নিহতের সংখ্যা যাচাইয়ের চেষ্টা করলেও দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় তা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি দিন দিন আরও সহিংস ও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থান, হামলার হুমকি আদান–প্রদান
এই গণবিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার চরম অবমূল্যায়ন। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান কমে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫, যা একে বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত করেছে। এর ফলে খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাজারের ব্যবসায়ীরা উচ্চমূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে যে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন, তা দ্রুতই ৩১টি প্রদেশের শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিক্ষোভকারীরা শুধু জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর নয়, বরং বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিও তুলছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই আন্দোলন ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সরকার যদি নিষ্ঠুরভাবে আন্দোলন দমন করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক ভাষণে অর্থনীতি ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, তার সরকার জনগণের অভিযোগ শোনার জন্য প্রস্তুত। তবে সরকারের এই আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা আস্থা রাখছেন না এবং রাজপথে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।





