ইরানে বিক্ষোভকারীদের আত্মসমর্পণে তিন দিনের আল্টিমেটাম

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নাগরিকদের আত্মসমর্পণের জন্য তিন দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করলে শাস্তির ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো হবে বলে জানিয়েছে ইরানের জাতীয় পুলিশ।

সোমবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে সতর্কতা জারি, ভ্রমন এড়ানোর পরামর্শ

ইরানের জাতীয় পুলিশের প্রধান আহমাদ-রেজা রাদান এক বিবৃতিতে বলেন, যেসব তরুণ ‘প্রতারিত হয়ে’ দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়েছেন, তারা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শত্রু নন। তাদের জন্য সহনশীল আচরণ করা হবে। তিনি বলেন, “যারা ভুল বুঝে সহিংসতায় অংশ নিয়েছেন, তারা তিন দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করলে তাদের প্রতি শাস্তির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে।”

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা দ্রুতই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। দেশটির প্রায় সব প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ গত কয়েক বছরের মধ্যে ইরানি সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার শঙ্কায় খামেনি সরানো হয়েছে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়ে

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের পর বর্তমানে বিক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে। তবে সহিংসতা ও সংঘর্ষে ব্যাপক প্রাণহানির অভিযোগ রয়েছে। ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, বিক্ষোভ ও সহিংসতায় অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, শুরুতে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে তা দাঙ্গায় রূপ নেয়। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো শত্রু রাষ্ট্রগুলোর উসকানিতে দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এই সহিংসতা ছড়ানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, গত সপ্তাহ পর্যন্ত বিক্ষোভের ঘটনায় প্রায় তিন হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, গ্রেপ্তারের সংখ্যা ২০ হাজারের কাছাকাছি হতে পারে।

এর আগে শনিবার দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এক বক্তব্যে বলেন, ‘ফিতনাবাজদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে হবে’ এবং দেশি-বিদেশি অপরাধীরা কোনোভাবেই শাস্তি এড়াতে পারবে না।

এই পরিস্থিতিতে আত্মসমর্পণের আহ্বান ইরান সরকারের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে একদিকে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা, অন্যদিকে সীমিত পরিসরে নমনীয়তার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।