এপস্টেইন কাণ্ডে তদন্তে সাক্ষ্য দিতে রাজি বিল ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটন
জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত কংগ্রেসীয় তদন্তে সাক্ষ্য দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন সম্মত হয়েছেন। বিল ক্লিনটনের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ক্লিনটন দম্পতি তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হবেন।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন রিপাবলিকান–নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে ক্লিনটন দম্পতিকে আইনি তলব অমান্যের অভিযোগে ‘ক্রিমিনাল কনটেম্পট’ ঘোষণার বিষয়ে ভোটাভুটির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল।
আরও পড়ুন: জাপানে অস্বাভাবিক তুষারপাতে মৃত বেড়ে ৩০, আউমোরিতে সেনা মোতায়েন
সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে বিল ক্লিনটনের একটি ছবি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও তিনি কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। রিপাবলিকানদের নেতৃত্বাধীন হাউস ওভারসাইট কমিটি গত মাসের শেষ দিকে ক্লিনটন দম্পতিকে অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করে, যেখানে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্যও সমর্থন দেন।
কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার সে সময় বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে—‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়’।
আরও পড়ুন: ভারতীয় পণ্যে শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র
তবে ক্লিনটন দম্পতির আইনজীবীরা কংগ্রেসীয় তলবকে ‘কার্যকরযোগ্য নয়’ উল্লেখ করে জানান, এপস্টেইন–সংক্রান্ত তাদের কাছে থাকা সীমিত তথ্য ইতোমধ্যেই কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই তলব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিপক্ষকে বিব্রত করার কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়।
সোমবার সন্ধ্যায় ক্লিনটনের মুখপাত্র অ্যাঞ্জেল উরেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, সদিচ্ছার ভিত্তিতে আলোচনা শেষে ক্লিনটন দম্পতি তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হতে সম্মত হয়েছেন। তারা আশা করছেন, এই উপস্থিতির মাধ্যমে সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।
উল্লেখ্য, এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকারদের কেউ কখনো বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেননি। এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে পূর্বজ্ঞান ছিল—এমন অভিযোগও তিনি ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছেন।
কংগ্রেসের নির্দেশে বিচার বিভাগ যে ছবিগুলো প্রকাশ করেছে, তাতে বিল ক্লিনটনকে এপস্টেইনের সঙ্গে এবং তার মালিকানাধীন একটি সম্পত্তিতে দেখা যায়। একটি ছবিতে তাকে সুইমিং পুলে এবং আরেকটিতে হট টাবের মতো স্থানে দেখা গেলেও ক্লিনটনের মুখপাত্র জানান, ছবিগুলো বহু পুরোনো এবং এপস্টেইনের অপরাধ প্রকাশ্যে আসার আগেই ক্লিনটন তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।
হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান আরও দাবি করেন, ক্লিনটন দম্পতিকে তলবের সিদ্ধান্ত দ্বিদলীয়ভাবে গৃহীত হয়েছিল এবং তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও বারবার সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে।





