যেভাবে খামেনির অবস্থান খুঁজে পায় সিআইএ–ইসরাইল

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ন, ০১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৬:০০ অপরাহ্ন, ০১ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। আজ রোববার (১ মার্চ) ভোরে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি প্রশাসনিক কমপ্লেক্সে এই হামলা চালানো হয়। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা (IRNA) এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, খামেনির সাথে তার মেয়ে, জামাতা এবং নাতিও নিহত হয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা গোয়েন্দারা দাবি করে আসছিলেন যে, খামেনি অত্যন্ত গোপন ও নিরাপদ বাঙ্কারে অবস্থান করছেন। তবে আজকের এই হামলা সেই ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) কয়েক মাস ধরে খামেনির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাসে হামলা: খামেনি হত্যার প্রতিবাদে সংঘর্ষে নিহত ৮

গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, শনিবার সকালে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ ওই কমপ্লেক্সে প্রেসিডেন্ট এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে একটি জরুরি বৈঠকে বসবেন খামেনি। এই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের পূর্বপরিকল্পিত হামলার সময় পরিবর্তন করে শনিবার সকালে নিয়ে আসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমল থেকেই ইরানি নেতৃত্বের ওপর যে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়েছিল, সাম্প্রতিক ১২ দিনের সংঘাতের সময় তা আরও সুসংহত করা হয়। সিআইএ এবং ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের মধ্যে ‘নির্ভুল’ তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমেই এই 'কৌশলগত চমক' দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ইসরাইলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার মতে, ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেও নেতৃত্বের সুরক্ষায় যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন না করায় এই বিপর্যয় ঘটেছে।

আরও পড়ুন: ইরানে মেয়েদের স্কুলে হামলায় নিহত বেড়ে ১৪৮

ইসরাইলি বিমান বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ইরানে ১,২০০-এর বেশি বোমা ও গোলাবারুদ নিক্ষেপ করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ও এই হামলার শিকার হয়েছে। এতে অন্তত ১৪৮ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "নিষ্পাপ শিশুদের রক্ত বৃথা যাবে না। এই কাপুরুষোচিত হামলার দাঁতভাঙা জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।"

এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে এক চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউস বা সিআইএ এখন পর্যন্ত এই অভিযান নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।