বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও অগ্রাধিকার

দেশের ৮টি অব্যবহৃত বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:০৫ অপরাহ্ন, ৩১ মে ২০২৬ | আপডেট: ৬:০৫ অপরাহ্ন, ৩১ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দেশের আটটি অব্যবহৃত বিমানবন্দর পর্যায়ক্রমে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বোর্ড সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।

সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রীতা জানান, পরিত্যক্ত বিমানবন্দরগুলো জনচাহিদার প্রেক্ষিতে স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের স্বার্থ ও যাত্রীসেবা বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

আরও পড়ুন: নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে ভারসাম্য আসবে।

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ধরনের উড়োজাহাজসহ দেশি-বিদেশি যাত্রী ও কার্গো বিমান সহজে অবতরণ করতে পারবে। প্রকল্পে চারতলা আধুনিক টার্মিনাল, কন্ট্রোল টাওয়ার, কার্গো কমপ্লেক্স এবং আইএলএস ক্যাট-৩বি প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ঘন কুয়াশাতেও নিরাপদ উড্ডয়ন-অবতরণ নিশ্চিত করবে।

আরও পড়ুন: বিরোধী দলের নামের তালিকা পেলেই সংবিধান সংশোধনে এগোবে সরকার: আইনমন্ত্রী

বর্তমানে প্রকল্পটির নকশা ও কারিগরি সমীক্ষার জন্য বুয়েটকে পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ২৮ এপ্রিল বুয়েট প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেবিচকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরামর্শক নিয়োগের পর ছয় মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নকশা ও ডিপিপি প্রস্তুতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪০০ থেকে ৬০০ একর অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক নবায়ন এবং রানওয়ে সেফটি এরিয়া উন্নয়নও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্প ব্যয় ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে। সম্প্রতি মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বগুড়া বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন।

অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর ১৯৪০ সালে ৫৫০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের সময় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ১৯৭৭ সালে রানওয়ে সংস্কারের পরও যাত্রী সংকটে ১৯৮০ সালে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে অবকাঠামো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে—টার্মিনাল ও কন্ট্রোল টাওয়ার প্রায় অকার্যকর, নেই আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর আধুনিকায়নে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে তিন বছর সময় লাগবে। প্রথম ধাপে ৫৮২ একর জমি অধিগ্রহণ, রানওয়ে সম্প্রসারণ, নতুন টার্মিনাল ও নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে রানওয়ে ৯ হাজার ফুটে উন্নীত করা হবে।

২০ মে বেবিচক ও মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পরিদর্শন করে।

এছাড়া বেবিচকের পরিকল্পনায় লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, শমশেরনগর, খানজাহান আলী ও পটুয়াখালীসহ মোট আটটি অব্যবহৃত বিমানবন্দর ধাপে ধাপে চালুর কথা রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে কোন বিমানবন্দর আগে চালু হবে তা নির্ধারণ করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিমানবন্দর চালু হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে কর্মসংস্থান বাড়বে, কৃষি ও পর্যটন খাতে গতি আসবে এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন ঘটবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যাত্রী চাহিদা ও অর্থনৈতিক টেকসইতা নিশ্চিত না হলে প্রকল্পগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্ভাব্যতা বিবেচনা করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

বর্তমানে দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক ও পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর নিয়মিত কার্যক্রম চালাচ্ছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মর্যাদা দেওয়া হলেও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি।