হরমুজ প্রণালী খোলা, তবে সবার জন্য নয় : ইরান
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থক দেশগুলোর কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। তবে যেসব দেশ এই জোটের অংশ নয়, তাদের জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: ইরাকে যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিওমার্স হায়দারি গতকাল ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।
আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, তার প্রায় ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।
আরও পড়ুন: ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সুনামি সতর্কতা
এই কারণেই হরমুজ প্রণালীকে অনেক সময় ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ বলা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো মূলত এই পথ ব্যবহার করেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল রপ্তানি করে থাকে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজের ক্রুদের সতর্কবার্তা দিতে শুরু করে আইআরজিসি। একই সঙ্গে কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০টি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দামে অস্থিরতা বাড়তে পারে।





