ওসমান হাদি হত্যা: আসামিদের পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ সাংমা ভারতে আটক

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ন, ১৪ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১০:১০ অপরাহ্ন, ১৪ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

#মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে প্রধান দুই আসামিকে পালাতে সহায়তার স্বীকারোক্তি

# পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বার্তা ঢাকায়

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে রওনা দিয়েছে ২,৫০০ মার্কিন স্থলসেনা

#বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে শুরু কূটনৈতিক প্রক্রিয়া

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামিকে বাংলাদেশ থেকে পালাতে সহায়তাকারী হিসেবে অভিযুক্ত ফিলিপ সাংমাকে ভারতে আটক করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। শনিবার নদীয়া জেলার শান্তিপুরের কাছ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। এ বিষয়ে কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়েও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধ শেষ করতে ইসরায়েলকে এক সপ্তাহ সময় যুক্তরাষ্ট্রের

কূটনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তসংলগ্ন ভুটিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফিলিপ সাংমাকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশে তিনি সহায়তা করেছিলেন।

এসটিএফের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গ্রেপ্তার এড়াতে পরবর্তী সময়ে ফিলিপ সাংমা নিজেও অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেন। তাকে আদালতে হাজির করার পর বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে জুমার নামাজের কিছুক্ষণ পর রিকশায় থাকা অবস্থায় ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

তদন্তে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত হিসেবে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে শনাক্ত করে। তবে ঘটনার পরপরই তারা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যায় বলে তদন্তে উঠে আসে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের আগে থেকেই সীমান্ত দিয়ে পালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এতে নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় দালালদের সহায়তায় ফয়সাল ও আলমগীরকে ভারতে পার করে দেওয়া হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হালুয়াঘাট সীমান্তে টাকার বিনিময়ে অবৈধ পারাপারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন দালালের মধ্যে ফিলিপ সাংমা অন্যতম। ঘটনার পর পুলিশ তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ফয়সাল ও আলমগীরকে সীমান্ত পার করানোর পর টেলিভিশনের সংবাদ দেখে তারা বুঝতে পারেন যে ঢাকায় বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা পালিয়ে এসেছে। পরে বিষয়টি ফিলিপকে জানালে তিনিও আত্মগোপনে চলে যান।

ফিলিপ সাংমা গ্রেপ্তার হওয়ায় ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ভারতে গ্রেপ্তার ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াল তিনজনে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল করিম ও আলমগীর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এই হত্যা মামলায় বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। তবে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম চৌধুরীসহ আরও দুজন এখনো পলাতক রয়েছেন।

গত ৭ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। কিন্তু মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দিলে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।