কাতারের গ্যাস স্থাপনায় হামলা: জ্বালানি সংকটে ঝুঁকিতে দক্ষিণ এশিয়া

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ন, ১৯ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১:১৭ পূর্বাহ্ন, ২২ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার-এর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি-তে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত দু’বার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে রাস লাফান এলাকা। এতে স্থাপনাগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের ওষুধে শতভাগ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা ট্রাম্পের

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাস লাফান থেকে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ আসে। যুক্তরাষ্ট্রের পর কাতার বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ, যার বড় অংশই এই কেন্দ্র থেকে পরিচালিত হয়।

এর আগে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় মার্চের শুরু থেকেই রাস লাফানে এলএনজি উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ ছিল। সাম্প্রতিক হামলার ফলে স্থাপনাগুলোর পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে যা বললেন ভারতীয় হাইকমিশনার

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো—বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান—এই সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব অনুভব করবে। কারণ এসব দেশের এলএনজি আমদানির বড় অংশই কাতারের ওপর নির্ভরশীল এবং বিকল্প মজুতও সীমিত।

শুধু জ্বালানি নয়, রাস লাফান থেকে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়ার মতো কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ সারও উৎপাদিত হয়। পাশাপাশি এখানে উৎপাদিত হয় সালফার এবং মাইক্রোচিপ শিল্পে ব্যবহৃত হিলিয়াম গ্যাস, যা বৈশ্বিক সরবরাহের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।

ভৌগোলিকভাবে কাতারের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত এই শিল্পনগরী রাজধানী দোহা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে। এটি পারস্য উপসাগরের বিশাল গ্যাসক্ষেত্রের অংশ, যা কাতার ও ইরানের মধ্যে বিভক্ত—কাতারের অংশ ‘নর্থ ডোম’ এবং ইরানের অংশ ‘সাউথ পার্স’ নামে পরিচিত।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই হামলার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।