ঢাকায় ১০০ দিন

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এগিয়েছে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিন পূর্ণ হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার দাবি করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে তিনি “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করেছেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন: ইরানের ৩ ট্যাংকার জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র, উত্তেজনা বাড়ছে

‘১০০ দিনেই দৃশ্যমান অগ্রগতি’

রাষ্ট্রদূত বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে শক্তিশালী হয়েছে। বাণিজ্য, স্বাস্থ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ নানা উদ্যোগ দুই দেশের জনগণকে আরও কাছাকাছি এনেছে।

আরও পড়ুন: কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পশ্চিমবঙ্গে ভোট গ্রহণ শুরু

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যখন তার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করছে, তখন বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে ওয়াশিংটন আগ্রহী।

বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা

ভিডিও বার্তায় ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ও তার স্ত্রী ডিয়ান বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে আন্তরিক অভ্যর্থনা পেয়েছেন। এ সময় তারা দেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থান ভ্রমণ, পহেলা বৈশাখ উদযাপন এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।

নির্বাচন ও কূটনৈতিক লক্ষ্য

একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সময়ের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা নির্ধারণ করেছেন, যা বাস্তবায়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

বাণিজ্য চুক্তি ‘ঐতিহাসিক’

রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে। এই সম্পর্ক জোরদারে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন বলেও জানান।

অভিবাসন ও স্বাস্থ্য সহযোগিতা

তিনি জানান, অবৈধ অভিবাসন ও ভিসা জালিয়াতি প্রতিরোধে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতাও জোরদার করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতে নতুন অংশীদারত্বের আওতায় যক্ষ্মা ও হামসহ বিভিন্ন রোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র

রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা করা বৃহত্তম দাতা দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে এই সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ

আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, সামনে কী কী অর্জন সম্ভব, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন তিনি।