যুদ্ধ চলাকালে গোপনে আমিরাত সফর করেছিলেন নেতানিয়াহু
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বুধবার নেতানিয়াহুর দপ্তর এ তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে সফরের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছে আমিরাত সরকার।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সফরকালে নেতানিয়াহু আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠককে “ঐতিহাসিক অগ্রগতি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, দুই দেশের সম্পর্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় এই বৈঠক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আরও পড়ুন: চীনে আঘাত হানল শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’, নিরাপদ আশ্রয়ে ২০ লাখ মানুষ
তবে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এমন কোনো সফর হয়নি। তারা বলেছে, ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক গোপন যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক প্রকাশ্য এবং আব্রাহাম চুক্তির ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে। কোনো অনানুষ্ঠানিক বা গোপন ব্যবস্থার ওপর এ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত নয়।”
আরও পড়ুন: জর্ডান ও কাতারের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকালীন সময়ে নেতানিয়াহুর কথিত সফর ঘিরে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্য মধ্যপ্রাচ্যের জটিল কূটনৈতিক বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।
ইরান এরই মধ্যে অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমিরাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তেহরানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। যুদ্ধ শুরুর পর আমিরাত লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও চালিয়েছে ইরান।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইসরায়েল আমিরাতে আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করে। সেই সঙ্গে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনায় ইসরায়েলি সেনাও দেশটিতে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরে বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানও একই উদ্যোগে যুক্ত হয়।
সূত্র: বিবিসি





