ঝড়বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত উত্তরপ্রদেশ, ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৫৬
উত্তরপ্রদেশজুড়ে ভয়াবহ ঝড়বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে অযোধ্যা, বারাণসী ও গাজ়িয়াবাদ-সহ অন্তত ৩০টি জেলা। গত ২৪ ঘণ্টায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বহু মানুষ। প্রশাসনের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রয়াগরাজ, প্রতাপগড়, ভদোহী, ফতেহপুর, উন্নাও, কানপুর দেহাত, চন্দৌলি, সোনভদ্র ও বদায়ুঁ জেলা। কোথাও ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে গেছে, আবার কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে সবরকম পশু জবাই নিষিদ্ধ করল বিজেপি সরকার
সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে প্রয়াগরাজে। সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন। ভদোহীতে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের, ফতেহপুরে ৯ জন, বদায়ুঁতে ৫ জন, প্রতাপগড়ে ৪ জন এবং চন্দৌলি ও কুশীনগরে দু’জন করে মারা গেছেন। সোনভদ্রে প্রাণ হারিয়েছেন একজন।
প্রয়াগরাজ জেলার হান্ডিয়া এলাকায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ফুলপুরে তিন জন, সোরাওয়ে তিন জন, মেজায় দুই জন এবং সদর এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়েছে ঝড়ের কবলে পড়ে।
আরও পড়ুন: তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র–চীন সংঘাতের আশঙ্কা
শুধু ঝড় নয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০টি জেলায় ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। মথুরা, উন্নাও ও প্রয়াগরাজে শিলাবৃষ্টির ঘটনাও ঘটেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বহু গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য কাঁচাবাড়ি। বিভিন্ন জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি গবাদি পশুর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
দেওরিয়া, বারাবঁকী ও সীতাপুর জেলায় প্রায় ২ হাজার গ্রাম বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। বরেলীতে ঝড়ে একটি টিনের ছাউনি উড়ে গিয়ে এক ব্যক্তিকে প্রায় ৪৫ ফুট উঁচুতে তুলে নিয়ে ১০০ মিটার দূরে ছুড়ে ফেলে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং নিহতদের পরিবারকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে এই ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। তবে শুক্রবার থেকে বুন্দেলখণ্ড অঞ্চল এবং উত্তরপ্রদেশের দক্ষিণাংশে আবারও তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।





