অরুণাচল প্রদেশে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করলো বিজেপি

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ন, ০৫ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫৯ অপরাহ্ন, ১২ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগর অঞ্চলে অনুমোদনবিহীন ধর্মীয় স্থাপনা চিহ্নিত করার অভিযানের অংশ হিসেবে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করেছে রাজ্য প্রশাসন। স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবির পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

অরুণাচল প্রদেশ ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ অর্গানাইজেশন বা এপিআইওয়াইও নামের একটি স্থানীয় আদিবাসী যুব সংগঠনের দীর্ঘ আন্দোলনের পর রাজ্য প্রশাসন এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। 

আরও পড়ুন: আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি, মোদি সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ

সংগঠনটির পক্ষ থেকে রাজধানী অঞ্চলে প্রতীকী বন্ধ কর্মসূচিও পালন করা হয়। তাদের দাবি ছিল, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া নির্মিত স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

রাজ্য সরকারের মুখপাত্র ও শিক্ষামন্ত্রী পিডি সোনা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর সঙ্গে আদিবাসী নেতাদের বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপিত হয়। এরপর রাজধানী কমপ্লেক্স এলাকায় অনুমোদনহীন ধর্মীয় স্থাপনা শনাক্ত করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: সৌদির সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক’ পরমাণু চুক্তিতে ট্রাম্পের অনুমোদন

সরকারি জরিপে মোট ১৫টি অননুমোদিত মসজিদ শনাক্ত করা হয়। প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রথম ধাপে ১২টি স্থাপনা সিলগালা করা হয়। পরে জুন মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত আরেকটি বৈঠকের পর বাকি তিনটি স্থাপনাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রাজ্য সরকার বলছে, আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত বিষয়গুলো প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যেই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ফলে নতুন করে কোনো আন্দোলন বা হরতাল কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অরুণাচল প্রদেশে অভিবাসন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উন্মুক্ত আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সীমান্তের কারণে অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

এর আগে মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর সভাপতিত্বে ছাত্র সংগঠন, উপজাতীয় প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ, আইনি বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা এবং ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু বলেছেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক কাঠামো এবং নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের সঙ্গেও যুক্ত বলে উল্লেখ করেন।

রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে আইএলপি ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

 সূত্র: এনডিটিভি