হুথিদের হুঁশিয়ারি

সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা বাড়ালে জবাব হবে আরও ভয়াবহ

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১৩ অপরাহ্ন, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১:১৩ অপরাহ্ন, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইয়েমেনে সৌদি আরব নতুন করে সামরিক অভিযান চালালে পাল্টা আরও বড় পরিসরে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে বলেছেন, এবার শুধু সৌদির সীমান্তবর্তী অঞ্চল নয়, দেশটির আরও গভীরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

ইয়েমেনে সৌদি আরব নতুন করে হামলা চালালে দেশটির বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত ও তীব্র সামরিক অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে বলেছেন, ভবিষ্যতে হামলা হলে সৌদি আরবের আরও গভীরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও তাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় জাভা সাগরে নিখোঁজ জাহাজের ১০২ যাত্রী উদ্ধার, নিহত ১

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বক্তব্যে ইয়াহিয়া সারে দাবি করেন, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের সারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে হুথিরা।

হুথি মুখপাত্রের দাবি, গত ৪৮ ঘণ্টায় সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৩০টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার জবাবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন: এবার নিজের সম্পত্তির তালিকায় চাঁদকেও যুক্ত করলেন ট্রাম্প

ইয়াহিয়া সারে বলেন, ইয়েমেনে যদি সৌদি বাহিনী আবারও হামলা চালায়, তাহলে হুথিদের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে। সেক্ষেত্রে সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর পাশাপাশি দেশটির অভ্যন্তরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

মোখা ঘিরে সংঘাতের তীব্রতা

সম্প্রতি লোহিত সাগরের তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্যে অভিযান শুরু করে হুথিরা। তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরব বিমান হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এরপর সৌদি ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা শুরু করে হুথিরা। গত মঙ্গলবার দুই পক্ষের সংঘাত সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে পৌঁছায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ওই সময় সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের হামলায় ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির কয়েকটি জ্বালানি অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থলযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী

এদিকে হুথিদের কাছে লোহিত সাগরের পূর্ব উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা হারানোর পর সেগুলো পুনর্দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী।

মারিব প্রদেশের গভর্নর ও দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদস্য সুলতান আল-আরাদা জানিয়েছেন, সরকারি বাহিনীর সেনাদের পুনর্গঠন করা হচ্ছে। প্রস্তুতি শেষে তারা দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যাবে বলেও জানান তিনি।

সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সাবাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-আরাদা পূর্ব উপকূলে হুথিদের কাছে সরকারি বাহিনীর পরাজয়কে ‘যন্ত্রণাদায়ক ও দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যে সামরিকভাবে এমন ধাক্কা অস্বাভাবিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে দেওয়ার অভিযোগ

হুথিদের বিরুদ্ধে শান্তি প্রক্রিয়া নষ্ট করার অভিযোগও তুলেছেন সুলতান আল-আরাদা। তার দাবি, হুথিরাই রাজনৈতিক সমাধানের পথ বন্ধ করে দিয়েছে এবং এখন শান্তির পরিবর্তে ইয়েমেনকে আবারও যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ফলে একদিকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বাড়ছে, অন্যদিকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীও হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে দেশটির দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে আরও বড় সামরিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।